Ameen Qudir

Published:
2018-06-07 09:30:50 BdST

যুক্তরাষ্ট্রে ভুল চিকিৎসায় প্রতিদিন ৭০০ জনের মৃত্যু : বাংলাদেশে বছরে ৭০ জনও নয়





 

ডা. নাজলী স্বাতী দিওয়ান , যুক্তরাষ্ট্র
____________________________

যারা বাংলাদেশে ডাক্তারদের নিয়ে অবিরাম বিষোদ্গারে ব্যস্ত ; তাদের কাছে খোদ যুক্তরাষ্ট্র বসে এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থার কিছু বাস্তব দিক তুলে ধরতে চাই।


কোন ডাক্তারই রোগীর খারাপ চান না। সে যে দেশেরই হোক। রোগীর সুচিকিৎসাই ডাক্তারের সবচেয়ে বড় ইবাদত। এই লেখাও যুক্তরাষ্ট্রের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে লিখছি না। বরং ড্রিম ল্যন্ড অামেরিকার কঠিন বাস্তব তুলে ধরে সত্যকে অনুধাবনের চেষ্টা আর কি।

কিন্তু বাংলাদেশের অপরিনামদর্শী মিডিয়ার কারণে দেশীয় চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে। অথচ অতি সীমিত সুযোগ সুবিধা ; স্বাস্থ্যখাতে নজিরবিহীন ডাক্তার সংশ্রবহীন দূর্নীীতর পরও বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নি: সন্দেহে উচ্চ প্রশংসার দাবীদার।


বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আয়তন , আয়উন্নতি, অর্থনীতি , সামর্থ , উচ্চ প্রযুক্তি র বিচারে আকাশ পাতাল পার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু জনসংখ্যা বেশ কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় জনসংখ্যা তেমন অাহামরি কম নয়।


সেই বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশে,
যুক্তরাষ্ট্রে ভুল চিকিৎসার কারণে প্রতিদিন ৭০০ জন মারা যায়। হাসপাতালের ভুল, ভুল ওষুধ ও চিকিৎসক-নার্সদের ভুলের কারণে বছরে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে উন্নত এই দেশটিতে, যা বছরের মোট মৃত্যুর সাড়ে ৯ শতাংশ।

সেখানে অনুন্নত বাংলাদেশে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু বছরেও ৭০ জন নয়। দুয়েকজন মারা গেলে মাস জুড়ে মিডিয়ায় ডাক্তারদের বিরুদ্ধে লেখালেখি হয়। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ৭০০ ভুল চিকিৎসায় মারা গেলেও সেসব কোন খবরই নয় মিডিয়ায়। মাঝে মধ্যে কয়েক বছর পর কোন গবেষনা প্রতিষ্ঠানের থিসিস পেপারে এসব ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ পায়।কালে ভদ্রে টেবলয়েডটাইপ সসি পেপারে খবর আসে। তার পেছনে ব্যবসা ব্লাকমেইলিং থাকে। কোন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডায় প্রতিদ্বন্ধী গ্রুপের বিশাল বিনিয়োগ থাকে।


আর বাংলাদেশে কোন ঘটনা অনাকাঙ্খিতভাবে মাসে দু মাসে ঘটলেও সকল রকম মিডিয়ায় ডাক্তারবিরোধী যুদ্ধ শুরু হয়। ফেসবুক, ইনটার নেট , অনলাইন পত্রিকায় মনগড়া সব কাহিনিও লেখা হয়।
বাংলাদেশে ভুল চিকিৎসার ঘটনা ঘটায় কোয়াক , অদক্ষ ভুয়া ডাক্তাররা। যুক্তরাষ্ট্রে এদের অস্তিত্ব নেই।
একটি ব্রিটিশ চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল এর আগে। পরে সেই গবেষনা তথ্যই বিভিন্ন গবেষণা আলোচনায় তুলে ধরা হয়। যে বাস্তবতার আজও কোন বড় হেরফের ঘটে নি। জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন ম্যাকারি পরিচালিত এ গবেষণা প্রতিবেদনে চিকিৎসাবিভ্রাটের সব বিষয়কে আমলে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসাসেবা নেওয়া অবস্থায় ভুল ওষুধ সেবন করানো, অপচিকিৎসা, অবহেলা, পদ্ধতিগত ত্রুটিসহ চিকিৎসার সময়ে বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়বিভ্রাটকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষণাপত্রে দেখানো হয়েছে, অসুখে নয়, রোগী মারা যাচ্ছে প্রত্যাশিত সেবা গ্রহণের ত্রুটির কারণে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোগীর সেবা নিয়ে হাসপাতালসহ সেবাকেন্দ্রগুলো উচ্চকণ্ঠ থাকলেও অবহেলা ও বিভ্রাটে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তেমন জনসমক্ষে নিয়ে আসা হয় না।


বেথ ইসরাইল মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক ক্যানেথ সেন্ডস বলেছেন, চিকিৎসাবিভ্রাটে মৃত্যু নিয়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বিষয়টিকে রীতিমতো উৎকণ্ঠার বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অন্যান্য সেবা খাতের সঙ্গে তুলনা করলে চিকিৎসা খাতে বিভ্রাটকে সহিষ্ণুতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিমান পরিবহনে সেবা দেওয়ার জন্য যে শৃঙ্খলা ও নিয়মনীতিকে কঠোরভাবে মানা হয়, চিকিৎসার ক্ষেত্রে তা-ও করা হয় না।
চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করা ও চিকিৎসাবিভ্রাটের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ক্যানেথ সেন্ডস।


নির্বাচন এর জনপ্রিয়