|

বাংলাদেশের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের ভয়ঙ্কর অপপ্রচার


Published: 2017-11-11 09:43:02 BdST, Updated: 2017-12-18 20:44:59 BdST

 

 

 

 



আহির ফা হিয়ান বুবকা

______________________________

 

বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয়।
বিদেশী বেনিয়া চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশীয় প্রচার জমজমাট।

বাংলাদেশের ডাক্তার সমাজকে চরম অপমান, নিগৃহীত করতে চলছে নিত্য নতুন ষড়যন্ত্র। এ জন্য ফাঁদা হচ্ছে মন গড়া কল্প কাহিনী। এই ষড়যন্ত্রে পা দিয়েছে বৃটিশ জার্নাল। আর সেসব অকথ্য মিথ্যে গল্প প্রচার হচ্ছে দেশীয় বহুল প্রচারিত মিডিয়ায়ও। বাংলাদেশের ডাক্তারদের নিয়ে সর্বশেষ কল্প কাহিনি হল বৃটিশ মেডিকেল জার্নালের । তারা নিরক্ষর সুলভ প্রপাগান্ডায় নেমেছে। তারা দাবি করছে বাংলাদেশের
চিকিৎসকেরা গড়ে ৪৮ সেকেন্ডে রোগী দেখেন!


এ রিপোর্ট জানাচ্ছে ঢাকার মিডিয়াও। অনুবাদ করে জানাচ্ছে,


দেশের চিকিৎসকেরা একজন রোগীর পেছনে গড়ে ৪৮ সেকেন্ড সময় দেন। ৬৭টি দেশের ওপর করা গবেষণার ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল বলছে, বিশ্বে বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা রোগীপ্রতি সবচেয়ে কম সময় ব্যয় করেন। ভারত ও পাকিস্তানের চিকিৎসকেরা রোগীর পেছনে যথাক্রমে ২ দশমিক ৩ মিনিট এবং ১ দশমিক ৩ মিনিট সময় দেন।

 


এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ডাক্তার সমাজের পক্ষে এসোসিয়েশন অব থেরাপিউটিক কাউন্সেলরস - এটিসিবির সাধারণ সম্পাদক , বিএসএমএমইউর মনোরোগ বিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন বলেন, এটা অপপ্রচার। ঢাহা মিথ্যে।
প্রতিদিন বিরতিহীনভাবে পরিশ্রম করে বাংলাদেশের ডাক্তাররা দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরকে জনসেবার ক্ষেত্র হিসেবে বিকশিত করে তুলছেন, সেখানে এসব অপপ্রচার হেল্থ সেক্টরকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের ডাক্তাররা কি অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, ১২ থেকে ১৬ ঘন্টা ডিউটি করে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছেন , সেটা বিএসএমএমইউ বা ঢাকা মেডিকেলের যে কোন আউটডোরে গিয়ে যে কেউ অনুভব করতে পারে।
৯০০ রোগীর কোন হাসপাতালে সেবা দেয়া হয় গড়ে ৩০০০ রোগীকে।
এটা অমানুষিক পরিশ্রম । ডাক্তার ও সেবাকর্মীরাই সেটা সম্ভব করছেন বাংলাদেশে।

 

তরুণ চিকিৎসক ডা. আলম হোসেইন সুমন বলেন, আমি নিশ্চিত , বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে ষড়যন্ত্র চলছে, এই মিথ্যা গল্প তারই অংশ। দেশে বিদেশে এখন অকল্পনীয় মিথ্যা রটানো হচ্ছে বাংলাদেশকে নিয়ে। বাংলাদেশেরই কিছু লোভী বিশেষজ্ঞ মনগড়া তথ্য দিয়ে দেশে বিদেশে গুজব ছড়াচ্ছে। গবেষনা ছাড়াই বাসায় বসে গল্প ফেদে সেটা বিদেশে বাংলাদেশের নাম ভাঙিয়ে সেমিনারে পড়ে আসছে। এমন অনেক খবরই আমরা পাচ্ছি।


ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল বলছে, বিশ্বব্যাপী রোগী দেখার সময়ে ব্যাপক পার্থক্য আছে। অধিকাংশ দেশের মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় পান। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে রোগীর স্বাস্থ্যসেবার ওপর। পাশাপাশি কিছু চিকিৎসকের ওপর কাজের বোঝা ও মানসিক চাপও পড়ে।

এ বিষয়ে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে ১৭৭ বছরের পুরোনো এই মেডিকেল সাময়িকী। ‘ইন্টারন্যাশনাল ভ্যারিয়েশন ইন প্রাইমারি কেয়ার ফিজিশিয়ান কনসালটেশন টাইম: আ সিস্টেমেটিক রিভিউ অব ৬৭ কান্ট্রিজ’ শিরোনামের প্রবন্ধে দেখা যায়, সুইডেনের চিকিৎসকেরা সবচেয়ে বেশি সময় দেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য সুইডেনের রোগীরা গড়ে চিকিৎসকদের কাছ থেকে সাড়ে ২২ মিনিট সময় পান।

 

বাংলাদেশের ডাক্তারদের সম্পর্কে এই ভয়ংকর মিথ্যাচাার সম্পর্কে ডা. রোজিনা সুলতানা বলেন, দেশের সবচেয়ে মেধাবী সেক্টর গুলোকে ধ্বংসের পায়তারা চলছে। এই মেডিকেল জার্নালের তথ্যদাতা কোন গবেষনা করে নি। বরং কোন পান্ডা গুন্ডা লাল্লু পাঞ্জুর সঙ্গে আলাপ করে তাদের ভাষ্য মতে রিপোর্ট করেছে। রাস্তাঘাটের পাবলিকের কথাবার্তা এখন মেডিকেল জার্নালেও স্থান পাচ্ছে। কোথাও কোন একসিডেন্ট হলে এরা রটায় ১২ জন কমপক্ষে মারা গেছে। পরে শুনি , তেমন কিছুই হয় নি। রাস্তার গুজবও এখন অনেক গবেষকদের টু পাইস ইনকামের রাস্তা খুলে দিচ্ছে।
এটা আমাদের কথিত টকশো এক্সপার্টদের গবেষনা হতে পারে।
টকশোতে যেমন প্রতিদিন মনগড়া সব তথ্য হাজির করে লোক খেপানো হয়; এই কাজও তাদের।

 


বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা মিডিয়াকে বলেন, বাংলাদেশের রোগী দেখার সময় সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

_______________________________

 

 

অাহির ফা হিয়ান বুবকা । নির্বাহী সম্পাদক , ডাক্তার প্রতিদিন। এবং আইন শিক্ষার্থী।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।