|

এক দুঃস্বপ্নের নাম এফসিপিএস


Published: 2017-01-07 11:20:30 BdST, Updated: 2017-07-28 12:44:14 BdST

   

 

 

 

নাভীম কবির প্রতীক , চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
 ____________________________


গরম খবর হল এফসিপিএস পার্ট ১ এর ফলাফল বের হয়েছে।

কিন্তু এই শীতে আরো উত্তপ্ত খবর কোন কোন বিষয়ে পাশের হার শূণ্য।

মনে প্রশ্ন জাগে, একজন দুজন না হয় অভিজ্ঞতা বা পরীক্ষা হল দেখতে ১১,০০০ টাকা দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করল কিন্তু ঐ বিষয়গুলোতে অংশগ্রহণকারী বাকিদের সবারই কি এত টাকা যে এতগুলো টাকা দিয়ে প্রস্তুতি ছাড়া পার্ট ১ দিতে এসেছে?

বিসিপিএসের সাথে যুক্ত সর্বেসর্বারা প্রস্তুতির অযুহাত দিয়ে যাচ্ছেন এই ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে।
তাহলে এটাই প্রমাণিত বেশিরভাগ তরুণ চিকিৎসক টাকার বিছানায় ঘুমিয়ে থাকেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক বেতন ১৫,০০০ হল বেশ কয়েক মাস হয়ে গেল।

সরকার থেকে শুরু করে চিকিৎসক নেতারা বা আমাদের সম্মানিত অধ্যাপক গণ মনে করছেন ইন্টার্নদের বেতন বৃদ্ধি যেহেতু হয়েছে তারা আংগুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাচ্ছে,তাদের এই কলাগাছ হওয়া ঠেকাতে এফসিপিএসের ফর্ম ফিলাপের ১১,০০০ টাকা করা যৌক্তিক।

১৫,০০০ টাকা বেতনের চিকিৎসকদের অনেকেই আগামী জুলাইয়ে এফসিপিএস পার্ট ১ পরীক্ষায় বসবেন।ধরলাম, ক য়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক। যিনি কিনা ভাল একজন চিকিৎসক হতে চান,তার ক্যারিয়ারকে অনেকদূর নিয়ে যেতে চান।

তার পরিবারের বড় ছেলে তিনি।মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান, দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই,আবার ক্যারিয়ার নিয়েও সে সচেতন।বাসায় কিছু টাকা দিয়ে সে এদিক ওদিক মিলিয়ে চলে পুরো মাস।ক্যারিয়ারের কথা ভেবে ক্লিনিক গুলোতে ডিউটি করেনা,তার কর্মস্থল ছাড়া।

আগামী মে জুন মাসের বেতন থেকে কোনক্রমে ১১,০০০ টাকা জমিয়ে রাখতে পারল ফর্ম ফিলাপের খরচ হিসেবে।অনেক বইও কিনল।কয়েকটা ধার ও করল।কোন কোন দিন আধপেটা খেয়ে বেচে থাকল।তার যে পার্ট ১ হতে হবে।


খ একজন নারী চিকিৎসক। ভাল ছাত্রী ছিল।এক ব্যবসায়ীর সংগে বিয়ে হল।তিনি আবার বউকে ঘরে দেখতেই পছন্দ করেন।স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ারকে গৌণ ভেবেছিলেন।কিন্তু তার স্বামী আবার শুনে এসেছেন কি যেন এক পার্ট ১ দেয়ার লাগে চিকিৎসকদের।উনি উনার বউকে বললেন,দেয়ার জন্য।এই পরীক্ষায় প্রস্তুতি ছাড়া বসা আর সার্কাস দেখা একই কথা বোঝাবার পরেও ব্যবসায়ী তাকে দিতে বললেন।এক মাসে খ প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চোখ দেখতে পেলেন শুধু সর্ষে ফুল।

 

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের যে কোন তিনদিন ঠিক হল পরীক্ষার। জনাব ক পড়েই যাচ্ছে,তার পুরো পরিবারের অবস্থা বদলে যাবে চান্স পেলে।

 

ভাগ্যক্রমে ক এবং খ পরীক্ষায় পাশাপাশি বসল।কেউ কাউকে চিনেনা বা জানেনা।পরস্পর পরীক্ষার আগে বসে কুশল জিজ্ঞাসা আর প্রস্তুতি। এতটুকুই।

পরীক্ষার তিনদিন পার হয়ে গেল।রাতে রেজাল্ট।আশাবাদী ক ও অনাশাবাদী খ দুজন রেজাল্ট দেখল।কিন্তু দুজনেই অকৃতকার্য। খ এর ব্যবসায়ী স্বামী তার উপর তীব্র রাগান্বিত হল।কিসের ডাক্তারী পড়ে এসেছে,১১,০০০ টাকাই নষ্ট।খ কোন ব্যাখ্যা দেয়নি।তার প্রস্তুতির তুলনায় পরীক্ষা ভাল হলেও ২১০ র মত হয়নি।তার আজকের কষ্ট একজন ভুক্তভোগী ছাড়া আরর কেউই বুঝতে পারবেনা।

 

ফেল করে ক এর অবস্থা খ এর এর চেয়ে আরো খারাপ।১১,০০০ এর কারণে অনেক ধার দেনা করতে হয়েছে।খ্যাপ মারাও হয়নি প্রস্তুতির জন্য।চিন্তায় তার ঘুম শেষ।

একসময়কার মেধাবী ক,লাইব্রেরী ছিল যার ঠিকানা,সে একজন ক্লিনিক গুলোতে কাজ করে।বেচে থাকতে চাই আগে টাকা,ফেলোশিপ নয়।

খ চালিয়ে যাচ্ছে তার ঘরের কাজ।এফসিপিএস তার কাছে এক দুঃস্বপ্নের নাম।
.

_________________________________

 

নাভীম কবির প্রতীক , চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ । সুলেখক। এমবিবিএস শিক্ষার্থী।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।