|

নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ


Published: 2017-01-06 20:10:16 BdST, Updated: 2017-01-20 05:24:45 BdST

 


শেখর রায়, কলকাতা।

ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আসন্নপাঁচ রাজ্যের বিধান সভা নির্বাচনের ফলাফলের উপর যার মধ্যে উত্তর প্রদেশ সর্বাধিক গুরুত্বের। উত্তর প্রদেশ ছাড়াও ভোট হবে উত্তরাখণ্ড, গোয়া,মনিপুর, পাঞ্জাবে। আগামি ১১ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে শুরু হচ্ছে পর্যায়ক্রমে ভোট। প্রক্রিয়া সমাপ্ত হবে ৮ মার্চ। এই প্রদেশগুলির মধ্যে একমাত্র গোয়াতে আছে বিজেপি সরকার, পাঞ্জাবে চলছে বিজেপি সমর্থিত আকালি দলের সরকার। আর বাকি রাজ্যগুলিতে অ-বিজেপি ও মিলিঝুলি সরকার।

 

প্রায় দুমাস পূর্বে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে মোদীজী নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে বিলক্ষন ফেলে দিয়েছেন। প্রায় ৩০ কোটি ব্যাঙ্ক একাউনট হোল্ডার নিদারুন বিপদের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। সরকারি বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির সামনে বিশাল আকারের লাইনে দাড়িয়ে গ্রাহক মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দুর্বল, রোগগ্রস্ত, বৃদ্ধ মানুষ প্রায় ১১৪ জনের অকাল মৃত্যু হয়েছে এই টাকা তোলার লাইনে দাড়িয়ে। কারো পরিবার কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি।
মোদীজী তার বারংবার সরকারি ঘোষণা দিয়ে বলেছেন যে তিনি কালাধনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সরকারি করফাঁকি দেয়া মানুষকে শিক্ষা দিতে তার এই যোজনা। কিন্তু তার প্যাঁচে পড়ে সাধারন মানুষ বিপর্যস্ত হয়েছেন যদিও এই তথাকথিত সাধারন মানুষের এই বড় অংশ করফাঁকি দিতেও অভ্যস্ত যাদের মোদীজী করজালে আবদ্ধ করতে পেরেছেন, কিন্তু তারা বেজায় ক্ষেপেছেন তার উপর। আয়কর ফাঁকি দেয়া ছোট মাঝারী ব্যবসাদারদের সংখ্যা নেহাত কম নয় যাদের অনেকের বস্তা বস্তা কালাধন পুড়িয়ে, জলে ভাসিয়ে বা চলন্ত গাড়ি ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছ। এত ব্যাক্তিগত ক্ষতি মেনে নিয়ে তারা কেউ ভুলেও মোদীর দলকে ভোট দেবে না এটা পরিস্কার। আর এই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে গেছে মোদী বিরোধী দলেরা যার সামনের সারিতে আছে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস।

 

বিরোধী দলগুলির ব্যক্তব্য উপেক্ষণীয় নয়। তারা বলছে যে মাত্র ৬% শতাংশ কালো টাকা দেশের মাটিতে ছড়িয়ে ছিল, ৯৪% শতাংশ গচ্ছিত আছে বিদেশের ব্যাঙ্কে। যে কালাধন মোদীজী দেশে ফিরিয়ে আনবেন বলে বিগত নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি একেবারেই অসফল। একটা সাধারন হিসাবে দেখা যাচ্ছে বাতিল নোট ব্যাংকে জমা পড়েছে প্রায় ১১ লক্ষ কোটি টাকা যার সবটাই কিন্তু কালাধন নয়। অধিকাংশ বাতিল অর্থ মানুষ নতুন নোট নিয়ে বদল করেছেন মাত্র যার ঠিক কত শতাংশ কালো টাকা যার জন্য আয়কর জমা পড়েনি বলা এই মুহূর্তে কঠিন। যদিও দেশে সাধারন মানুষকে আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য একটি ভাল তবে অপ্রিয় প্রয়াস কোন সন্দেহ নেই। মোদীর রাজনৈতিক বিরোধীরা সুর চড়াচ্ছেন যে সরকারি ব্যাঙ্ক গুলিকে লুটে নিয়ে, দেনা না চুকিয়ে, ব্যাঙ্কগুলিকে দুর্বল করে ডজন খানেক ফাটকা পুঁজিপতি কেউ জেলে তো কেউ বিদেশে পালিয়েছে। এমন অনেকের খেলাপি ঋণ হাজার হাজার কোটি টাকা মাফ করে দেয়া হয়েছে মোদীর আমলে। বাকি ফাটকাবাজেরা চাইছে কম সুদে ব্যাঙ্ক থেকে শিল্প করার নামে আবার হাজার লক্ষ কোটি টাকা দীর্ঘ মেয়াদে ধার নেবে কিন্তু শোধ করবে না। কিন্তু ব্যাংকের হাতে তরল অর্থ না থাকলে ব্যাবসায় লগ্নী করা অসম্ভব যে কারনে নোট বাতিল করে সাধারন মানুষদের নিজের কষ্টার্জিত ধন ব্যাংকে জমা দিতে বাধ্য করা হল পুজিপতিদের স্বার্থে। কিন্তু আমজনতা পেল ঠন ঠন গোপাল।

 


নোট বাতিল থেকে ৫০ দিন পর মোদী সরকারের কিছু তাৎপর্য পূর্ণ ঘোষণা লক্ষণীয়। মাত্র ৪% সুদে ঋণ পাবে ছোট ব্যাবসাদার, কৃষক, আয়কর ছাড়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে ইত্যাদি যেগুলি থেকে ভবিষ্যতে পরোক্ষ লাভ হবে সাধারন মানুষের। মোদীজীর নোট বাতিল ইসলামী জঙ্গিবাদী ব্যাবসা বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দিয়েছে। জঙ্গি অর্থায়ন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কারন যত জাল নোট ছাপাখানার অবস্থান পাকিস্তানে যে গুলিতে রাতারাতি তালা ঝুলে গেছে। পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, মিয়ানমার রুট দিয়ে এই ভারতীয় জাল টাকা সিণ্ডিকেট প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে মোদীর নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত যা ভারতীয় উপমহাদেশে শান্তি বজায় রাখতে এক বিশাল পদক্ষেপ যা অস্বিকার করার কোন উপায় নেই। কিন্তু যে লক্ষ কোটি ভারতীয়ের জমানো টাকা বদল করা গেল না এই সময় সীমার মধ্যে তারা নিশ্চয় মোদীর প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারে না।

 


মোদীর নির্বাচনী প্রচার এখন তুঙ্গে। অন্য দলের চেয়ে হাজার গুন এগিয়ে। কারন বিজেপি বিরোধী দলগুলির আর্থিক হাল খুব খারাপ হয়ে গেছে এই নোট বাতিলের ধাক্কায়, যদিও এই নোট বাতিল তাদের প্রধান ইসু। মানে এই হিসাব বহির্ভূত অর্থে চলত নির্বাচনী মেগা শো যা এখন প্রায় হাওয়া হয়ে গেছে। এও এক অদ্ভুত পরিস্থিতি চলছে। ফলে, না জানি ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে মাত করে দেয় মোদীর দল এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে, সেটাই এখন দেখার।
_________________________

 


লেখক
শেখর রায় । সমাজ অগ্রগতির লেখক। সমাজ সচেতক।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।