|

বাংলা একাডেমীর ডিজির বিচিত্র বানানের স্ট্যাটাস নিয়ে তোলপাড়


Published: 2016-12-30 13:54:18 BdST, Updated: 2017-06-25 21:29:18 BdST

ডা. অঞ্জলি
________________________
এটা কি সত্যিই বাংলা একাডেমীর ডিজি বা মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান সাহেবের লেখা স্ট্যাটাস।
বিশ্বাস করবেন কেমন করে !
একবার পড়েই দেখুন না।
বাংলা বানানের কি ভয়াবহ অবস্থা তার লেখায়।

আমি প্রবল আগ্রহে তার ওয়ালে গিয়েছিলাম। ৪ হাজারের বেশী তার ফলোয়ার।
সেখানে নিজের ওয়ালে তিনি লিখেছেন ______________

 

 

"""

১.) আত্ম প্রচার করতে চাইনি, কিন্ত যে মিথ্যাচার করা হচ্ছ তাতে কিছু কথা বলা জরুরী হয়ে পড়েছে । তা নাহলে ভুল বার্তা চলে যাচ্ছে তরুনদের কাছে । এখনকার তরুনরা এসব ইতিহাস জানেনা । তরুন সাংবাদিকরাও তাই ।তাই তারা চতুর ফন্দীবাজ ও যেকোনও ভাবে সংবাদপত্রের পাতায় থাকার কৌশল করছে , এবং প্রতি বছরই এই নাটক করে এমন এক প্রকাশক নামধারীর পাল্লায় পড়েছ । সে নাকি মুক্তবুদ্ধির পক্ষের লোক । যে বইকে সে মুক্তবুদ্ধির বই বলে গত বছর রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রচার করে সে বইটি আসলে মুক্তবুদ্ধিচর্চা ধ্বংস করার বই । এ বইয়ের বিরোধিতা করে আমি নাকি মুক্তবুদ্ধিচর্চার ওপর আঘাত হানছি । এত বড় মিথ্যাচার আর হয়না । সত্য হল অমি বংশ পরম্পরার মুক্তবুদ্ধিচর্চার লোক । সে ঐতিহাসিক দলিলপত্র আমার অফিসে এলে দেখাতে পারি । প্রপিতামহ , পিতামহ পিতা সবাই মক্তবুদ্ধির অনুসারী ছিলেন । যাহোক , সে ইতিহাস বিস্তারে লিখবো পরে । এখন বর্তমানে ফিরি । ১৯৭৫ সালের পর লেখক- সংস্কৃতি কর্মীদের মধ্যে আমিই প্রথম মক্তবুদ্ধির চর্চার জন্য স্বৈর সামরিক শাসন আমলে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী NSI কর্তৃক ধৃত হই । আমার দোষ ছিল বাংলা একাডেমির সংস্কৃতি বিভাগের একুশের আলোচনায় বিষয় দিয়েছিলাম : মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখা আন্দোলন (১৯২৬ ) । স্মর্তব্য যে এরাই বাঙালি মুসলমানদের মধ্য প্রথম প্রগতিশীল ;এদের শ্লোগান ছিল : বুদ্ধির মুক্তি, 'Emancipation of Intellect ' . এদের নেতা কাজী আব্দুল ওদুদকে ঢাকা ছেড়ে কলকাতার চলে যেত বাধ্য করা হয় । আমাকে পূর্বোক্ত গোয়েন্দা সংস্থাও দিনভর মানসিক নির্যাতনের পর চট্টগ্রাম বদলি করা হয় । আমাকে এই বিপদে ফেলার মূলে ছিলেন জিয়ার মন্ত্রী আকবর কবীর (খুশি কবীরের পিতা ; তাই গতকাল ওদের সঙ্গ তার যোগদান খুব তাৎপর্যপূণ )খোন্দকার আব্দুল হামিদ ,মনিরউদ্দিন ইউসুফ ও বাংলা একাডেমির তৎকালীন ডিজি আশরাফ সিদ্দিকী । হায় ! এখন মুক্তবুদ্ধিচর্চার নতুন ধান্দাবাজদের এই কুমভিরাশ্রারু দেখে মনে হয় ধরণী দ্বিধা হও । ক্রমশ:

""""

____________________

এ প্রসঙ্গে


খুরশেদ আহমেদ লিখেছেন , যে প্রতিষ্ঠানটি 'বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক',
যে প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে প্রকাশ করেছে 'বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম'-এর পরিমার্জিত সংস্করণ, যার মুখবন্ধে আপনি নিজে আশা প্রকাশ করেছেন 'পরিমার্জিত সংস্করণ বাংলা বানানের প্রমিতকরণ ও সমতাবিধানে সহায়ক হবে',
সেই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষপদে থেকে আপনি আপনার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আপনার লেখায়
অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে
কম্পোজিশন-প্রমাদ (যেমন: 'যে মিথ্যাচার করা হচ্ছ'),
ব্যাকরণিক ভুল (যেমন: 'আত্ম প্রচার'),
অপ্রমিত বানা্নের ব্যবহার (যেমন: 'জরুরী'),
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মের লঙ্ঘন (যেমন: 'এসব ইতিহাস জানেনা'),
সম্মানিত ব্যক্তিদের বোঝাতে সর্বনামে অসম্মান-প্রদর্শন (যেমন: 'স্মর্তব্য যে এরাই বাঙালি মুসলমানদের মধ্য প্রথম প্রগতিশীল ;এদের শ্লোগান ছিল : বুদ্ধির মুক্তি, 'Imancipation of Intellect ' . এদের নেতা কাজী আব্দুল ওদুদকে ঢাকা ছেড়ে কলকাতার চলে যেত বাধ্য করা হয় ।'),
ইংরেজি শব্দ লিখতেও বানান-ভুল (যথা: 'Imancipation')
ইত্যাদি বিচ্যুতির যে-পরিমাণ লিখিত নিদর্শন আপনি রেখেছেন,
সেই পটভূমিতে আপনার পক্ষে
প্রমিত বানান কায়েমের কর্ণধার থাকার কিংবা
বাংলা একাডেমির ওই শীর্ষ পদে আসীন থাকার ন্যূনতম নৈতিক অধিকার
অবশিষ্ট থাকে বলে মনে করি না।

বি. দ্র, যদি আগামীতে প্রমাণ হয় যে, এটা ডিজি মহোদয়ের লেখা নয়, এটা ভূয়া একাউন্ট; তাহলে খুশী হব আমরা।
_______________________

লেখক ডা. অঞ্জলি । ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।