Ameen Qudir

Published:
2019-02-11 01:14:51 BdST

প্রিয়তমা ডা. মিতুর সঙ্গে প্রেম-সংসার টেকাতে ডা. আকাশ যা করতে পারত ! তার ভুলগুলো


 


ডা. সুরাইয়া খানম
_________________________

আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়। সবচেয়ে কাপুরুষ কাজ হল আত্মহত্যা। নরম মনের মানুষ ডা. আকাশের শোকাবহ আত্মহনন ও তার স্ত্রী ডা. মিতুকে নিয়ে নানা কটুক্তির ঝড় উঠলেও তাতে আকাশের কোন লাভ হল না। বরং মর্মান্তি পরিনতি পেল এই দম্পতি। একজন আত্মহননে পরপারে। অন্যজন জেল খানায়।
আকাশ মিতুর ভুলগুলি কোথায়।
মুসলমানদের ধর্মে দেনমোহরের প্রথা আছে। এটা পবিত্র জ্ঞানে এই সম্প্রদায় আরবসহ সবদেশেই মানে। আমরাও বাংলাদেশের মুসলমানরাও দেন মোহর নিয়ে বা দিয়ে বিয়ে করি।

১. এখানে এই বিশাল অঙ্কের দেনমোহর সত্যিই হাস্যকর। যে দেন মোহর দেয়ার মুরোদ নেই, তা দেয়া বা দিতে সম্মত হওয়া ইসলামে সিদ্ধ নয়। আকাশ পরিবার প্রথমেই সেই ভুল করেছে।

২. বিয়ে কেউ আত্মহত্যার হাতিয়ার হিসেবে করে না। তাই বিয়ে বিচ্ছেদের সুযোগ আছে। স্বামী বা স্ত্রী কেউ দুশ্চরিত্র হলে অন্যজন অবশ্যই তাকে তালাক দিতে পারে। আকাশ সে কাজ করলে আইনের নজরে দেনমোহর শেষ পর্যন্ত বাঁধা হত না।
৩. তারা মনোবিদ চিকিৎসকের শরণ নিতে পারত। যে বিবরণ পাওয়া যায়, তাতে স্ত্রী টি অতি যৌনাচরণ জাতীয় মনোবিকারে ভুগত। অশিক্ষিত কুসংস্কারী লোকজন এ নিয়ে গালাগাল করছে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন এ ধরণের রোগেরও চিকিৎসা করে। মূর্খরা যেটাকে স্বাভাবিক আচরণ ভেবে গাল দেয়, ডাক্তাররা তাকে সারিয়ে তুলতে পারে। আকাশ মিতু তা গোপণ না করে ডা. সুলতানা আলগিন মেডাম বা অন্য কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখাতে এত বড় স্কান্ডাল হত না।

নিশ্চিত ব্রেক আপ থেকে কী করে বাঁচাবেন প্রেমকে--------------

প্রেম ভেঙে যাচ্ছে— এই সংকেত প্রত্যেকেই পায়। প্রেমিক বা প্রেমিকা, দু’জনেই বুঝতে পারেন ভিতরে ভিতরে কীভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে সম্পর্কের সেতু। ব্রেক আপ জিনিসটা এমনই তার ধাক্কা সুদূরপ্রসারী হয় অনেক সময়ই। তবে চাইলে ব্রেক আপকে আটকানো সম্ভব। জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মনোবিদগন বলছেন , ব্রেক আপ বাঁচাতে কী কী করতে হবে—
প্রথমে এটা ভেবে দেখুন, সত্যিই কি এই সম্পর্কটা আপনার কাছে আগের জায়গাতেই আছে? নাকি, সত্যিই সেটা ভেঙে দেওয়ার সময় এসেছে! এ প্রশ্নের উত্তর আপনাকেই দিতে হবে। ভাল করে ভেবে তবেই সিদ্ধান্ত নিন। যদি সত্যিই আপনার সম্পর্ক আপনাকে দীর্ঘ সময় ধরে আর কোনও রকমের আনন্দ না দেয়, তার মানে সেই সম্পর্ক এবার সত্য়িই শেষ হওয়া দরকার।

ব্রেক আপ থেকে বাঁচার সব থেকে ভাল উপায়, তেমন কারও সঙ্গে গভীর সম্পর্কে না যাওয়া, যার সঙ্গে আদৌ আপনার কোনও সম্পর্ক তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। যদি ভাল করে না ভেবে কোনও সম্পর্কে চটজলদি চলে যান, দেখবেন কিছু দিন যেতে না যেতেই সেই সম্পর্কের ভিতরকার অন্তঃসারশূন্যতা আপনার কাছে প্রকট হয়ে উঠবে।

আপনার প্রেম যদি দীর্ঘকালীন হয় তাহলে অবশ্যই খেয়াল রাখুন কখনও অজ্ঞাতসারে যাতে কোনও সমস্যা আপনাদের সম্পর্কে ফাটল তৈরি করতে না পারে। এ ব্যাপারে সচেতন থাকুন। শুরুতেই যদি সেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, তবে অনায়াসেই তা থেকে বড় অঘটনের সম্ভাবনাকে এড়িয়ে যাওয়া যায়।

আপনার সঙ্গীকে সম্মান করুন। তিনি আপনাকে সম্মান করছেন কি না সেটাও খেয়াল রাখুন। এবং অবশ্যই দু’জনে দু’জনকে প্রয়োজনীয় স্পেস দিন।

যদি তা সত্ত্বেও দেখেন জল ক্রমশ নাকে কাছে পৌঁচে গিয়েছে, তাহলেও ঘাবড়াবেন না। একটা শেষ ও মরিয়া চেষ্টা করতেই পারেন। সঙ্গীর সঙ্গে লম্বা কথাবার্তা চালান। যদি সেও সমান মরিয়া হয় সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে, তাহলে সমাধানের সূত্র বেরিয়ে আসবেই।

প্রেমে পড়ার সময় থেকেই একটা ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। যে কোনও সম্পর্ক, তা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, মাথায় রাখুন তা ভেঙে যেতেই পারে। আপনি নিশ্চয়ই চেষ্টা করবেন তা টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু যদি তা না টেকে, তাহলে ভেবে রাখুন সত্যিই সম্পর্ক ভেঙে গেলে নিজেকে কী ভাবে সামলাবেন। এবং সেটা আগেভাগেই ভেবে রাখতে হবে। তাহলে ব্রেক আপ হয়ে গেলেও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না। কষ্ট হবে। কিন্তু তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবেই।


কলাম এর জনপ্রিয়