Ameen Qudir

Published:
2018-12-05 14:25:03 BdST

'গায়েবী' নির্দেশে ঢাকায় এক পুত্রকে কতল করল পিতা : অন্য সন্তানকে জিম্মি


বুধবারের ঘটনায় বাংলামটরে হাজার হাজার মানুষের ভিড়।


ডেস্ক
__________________________

সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শিশুটির বাবা কাজল বাসা থেকে বের হয়ে পাশে থাকা মাদ্রাসায় গিয়ে জানান, তাঁর ছোট ছেলে নূর সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এটা যেন মাইকে ঘোষণা করা হয়। তারপর মাদ্রাসার ছাত্রদের পবিত্র কোরআন খতম দেওয়ার জন্য নিয়ে যেতে চান। এ কথা শোনার পর আবদুল গাফফার নামে একজন খাদেম মাদ্রাসা থেকে তাঁর সঙ্গে যান। এখনো তিনি ভেতরে আটকা আছেন। মাইকে সংবাদ শুনে আমি আসি। ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি। কিন্তু কাজল ঢুকতে দেননি। দরজা আটকে দিয়েছেন। কাজলের সঙ্গে তাঁর বড় ছেলে সুরায়েত (৪) আছে।’ এই বিবরণ নুরুজ্জামান কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বলের।

কে এই কাজল। সে একজন মাদকাসক্ত। সে নিজেই কতল করেছে নিজের সন্তানকে। প্রথমে হত্যার কথা অস্বীকার করলেও পরে তার দাবি: গায়েবী নির্দেশ পেয়েছে।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন বলেন , এই গায়েবীপনা মনোরোগ। হতে পারে, মাদকাসক্তির ঘোরে তার এই গায়েবি নির্দেশ পাওয়ার মানসিক বিকৃতি হয়েছিল।
কখনও মানসিক রোগের কারণে গায়েবী বা পশু পাখি জ্বীন পরী মৃত আত্মীয় স্বজনের কথা শুনতে পায় অনেকে।
তবে কাজলের ক্ষেত্রে সে সন্তান হত্যার দায় থেকে এড়াতে গায়েবি ভন্ডামী করছে কিনা, সেটা পুলিশ গোয়েন্দাদের দেখার বিষয়।

 

নুরুল হুদা উজ্জ্বল অভিযোগ করেন, তাঁর ভাই নুরুজ্জামান কাজল দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলেকে হত্যা করেছেন। তাঁর হাতে রামদা ছিল।

এই ভয়াবহ কতলের ঘটনায় রাজধানীবাসী স্তব্ধ। ঘটনার নাটকীয় বিবরণ ছড়িয়ে পড়েছে মিডিয়ায়।

রাজধানীর বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়ির ভেতরে ঢুকে এক শিশুর লাশ দেখতে পেয়েছে র‍্যাব ও পুলিশ। বুধবার সকালে ওই বাসায় এক বাবা তাঁর দুই শিশুসন্তানকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছেন—এমন সংবাদে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিছুক্ষণ পরে র‍্যাব, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যেরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পুলিশ ও র‍্যাব ভেতরে ঢুকে ওই শিশুর লাশ দেখতে পেয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে।

শিশুটির নাম নূর সাফায়েত। তাঁর বয়স আনুমানিক আড়াই বছর।


র‍্যাব-২–এর এসআই শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বাড়ির ভেতরে ঢুকেছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি শিশুটির বাবা বসে আছেন, তাঁর পাশে একজন হুজুর বসে আছেন। শিশুটিকে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো একটি টেবিলের ওপর রাখা হয়েছে। শিশুটির বাবাকে কোনো সাহায্য লাগবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনাদের কারও সাহায্য লাগবে না। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা চলে যান। বেলা একটার দিকে আমি নিজে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে আমার ছেলেকে দাফন করব।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘ওই বাসায় একটি শিশু মারা গেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। শিশুটির বয়স আড়াই থেকে তিন বছর।’ তিনি জানান, শিশুর বাবা এর আগে মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জেলেও পাঠানো হয়।

শিশুটির বাবার নাম নুরুজ্জামান কাজল। কাজলের বাবার নাম মনু মেম্বার। পরিবারের সদস্যেরা জানান, এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে মনু মেম্বারের পরিবারের। কাজলের আচার-আচরণের জন্য পরিবারের সদস্যরা তাঁর ওপর বিরক্ত ছিলেন।

স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসার দোতলায় থাকতেন কাজল। পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তাঁর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাস খানেক আগে তাঁর স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, কয়েক মাস আগে স্ত্রীকেও মারধর করেন কাজল। প্রতিবেশীরা এসে তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। নির্যাতন সইতে না পেরে স্ত্রী চলে গেছেন। বাচ্চা দুটো বাবার সঙ্গে ছিল।

 


কলাম এর জনপ্রিয়