|

"ঘুষ দৈনন্দিন জীবনে কম্পলসারী : না চাইলেও দিতে হবে "


Published: 2018-01-07 12:20:49 BdST, Updated: 2018-02-23 16:15:27 BdST



 

 


ডা. মিথিলা ফেরদৌস

_________________________


ঘুষ ডাক্তারদের দৈনন্দিন জীবনে কম্পলসারী একটা ব্যাপার।স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন কর্মচারীর কাছে ছোট কোন কাজ থাকলে বা কাজ না থাকলেও,তার সাথে হায় হ্যালো করতে নিদেন পক্ষে পাঁচশত টাকা লাগেই।তারা অবশ্য ঘুষ চায়না কখনও।
অলিখিত নিয়মতো হয়েই গেছে,তাদের চাইতে হবে কেন?ঘুষ দিবেন না কাজ হবেনা।দিনের পর দিন ঘুরবেন।

আমি ঘুষ দেয়া ব্যাপারটাকে খুব উপভোগ করি,যেমন সেদিন,একজনের কাছে কাজে গেছি, টাকা দিয়েই কথা শুরু করলাম(টাকা না দিলে সে খুব সুন্দর ব্যাবহার করে,সে বলতো,ম্যাডাম কাজ যথা সময়ে হয়ে যাবে,কিন্তু কাজ হতোনা।এ আমার বহুল অভিজ্ঞতা)।
লক্ষ্য করলাম,পাশের ডেস্কে আরেকজন,জিগায়,

:ম্যাডামকে অনেকদিন পর দেখলাম,কেমন আছেন ম্যাডাম?
কুশলাদি বিনিময়ে,আমি প্রীত হইয়া,তার হাতেও কিছু টাকা দিলাম,কইলাম,
: চা খাইয়েন করিমভাই।

করিমভাই খুশীতে গদগদ হয়ে,নিজের চেয়ার ছেড়ে দিয়ে,নিজের কাপড়ের কোনা দিয়ে চেয়ার পরিষ্কার করে,সহনীয় মাত্রার ঘুষ,পরিবেশকেও সহনীয় করে। করিম বলে,
:এখানে বসেন ম্যাডাম।
:না করিম ভাই,কাজ আছে আজ যাই।
ফিরতি পথে কানে আসে,রহিম করিমের কথোপকথন

: ম্যাডামের মনটা বড়,হাসপাতালে টাকাওয়ালা ম্যাডামদের টাকা আছে মন নাই।

মনে মনে হাসলাম,তারা আমাকে গরীব ম্যাডামের তালিকায় ফেলছে।বড়লোকটা হই কেমনে?জায়গায় জায়গায় টাকা ছিটাতে হয়।আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি।
এইখানে অনেকেই বলবেন,

:আপনারাই পরিবেশ নষ্ট করেন।
:হ্যা করি,করতে বাধ্য হই,আমার পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্স নাই,পেশী শক্তি নাই,দিনের পর দিন ঘোরার মত সময় বা এনার্জিও নাই।তাই আমার মত সবাই টাকা দিয়েই কাজ করে,ঝামেলা এড়াতে।

নিজের রুমে এসে নিশ্চিন্ত হই,আমি জানি,এরা ঘুষ খেলেও কাজ করে,সেইটুকু ইমান ওদের আছে।
কিন্তু যারা বড় বড় ঘুষ খায়,তাদের সেই হুশ টুকুও থাকেনা।
একটা উদাহরণ দিয়ে শেষ করি।আমার এক আত্মীয় ব্যাংকের বড় অফিসার ছিল,লিজেন্ড ঘুষখোর।ঘুষের লাখ লাখ টাকা পার্টিরা বউ বাচ্চার হাতে দিয়ে যেতো,বউ বাচ্চা শপিং করে ভুলেই যেতো কে কে, কত কত টাকা দিয়েছে?আজ থেকে বিশ বছর আগেই দেখেছি,কার্টুন কার্টুন ফল মুল,মিষ্টি দিয়ে যেতো।কেউ এসি,কেউ জেনারেটর দিয়ে যেতো।আমার গর্বিত আত্মীয়া একদিন খুব গর্ব করে বলছিলে,"তোর ফুপা তো ঘুষ খায়া ফাটায়ছে"।

 

_______________________________
ডা. মিথিলা ফেরদৌস । সুলেখক ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।