|

এত কষ্ট করে গবেষণা করে লাভ কি, যদি না সেটি বিখ্যাত কোন জার্নালে ছাপা হয়?


Published: 2017-11-20 08:56:21 BdST, Updated: 2017-12-18 20:47:50 BdST



 


ডা. জাহিদুর রহমান

__________________________________

যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস এবং স্পেনের সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ, এ দুটো সংস্থা প্রতি বছর কমপক্ষে একশো আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্পন্ন হওয়ার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করে। গবেষণার মত নিরস বিষয়ের যে কোন তালিকায় আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তলানিতে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু লজ্জাজনক হল, এ বছর আমাদের দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সেই তলানিতেও নেই, মানে তালিকা থেকেই ছিটকে পরেছে। গত বছর এই একই তালিকায় ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও, এ বছর আছে মাত্র ৮ টি। বাংলাদেশের এক নম্বর গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি (আইসিডিডিআর) পৃথিবীর সেরাদের মধ্যে ৫৫৯ তম! তার চেয়েও বিস্ময়কর, গত বছর জাতীয় তালিকায় ৫ম স্থানে থাকলেও এবার তালিকাতেই নেই দেশের একমাত্র মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বাকিগুলো এখনো চালু হয়নি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।


একটি চমৎকার চিত্রকর্মের তখনই মুল্যায়ন করা হয়, যখন সেটির প্রদর্শনী হয়। একটি চলচিত্র তখনই বিখ্যাত হয়, যখন সেটি মুক্তি পায়। একটি গবেষণা তখনই স্বীকৃতি পায়, যখন সেটি বিশ্বমানের কোন জার্নালে প্রকাশ করা হয়। কয়েকশো শিক্ষকের কথা না হয় বাদ দিলাম, বিএসএমএমইউর অধীনে চলমান এমডি/এমএস রেসিডেন্সি কোর্সের ১০০০ হাজারের বেশি ছাত্র-ছাত্রীই তো বছরে অন্তত কয়েকশো গবেষণা করে। এটি তাদের ডিগ্রি অর্জনেরই একটি অন্যতম শর্ত। তাছাড়া গবেষণার জন্য বিষয়ভেদে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়। এতগুলো গবেষণা থেকে একশোটিও অন্যান্য দেশের জার্নালগুলোতে ছাপার যোগ্য হয় না? নাকি সেই উয্যোগটাই নেয়া হয় না? নাকি উয্যোগটি যে নেয়া প্রয়োজন, সেটা নিয়েই কারো কোন মাথা ব্যথা নেই? এত কষ্ট করে, এত সময় নিয়ে গবেষণা করে লাভ কি, যদি না সেটি বিখ্যাত কোন জার্নালে ছাপা হয়?


একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি বিভাগ না থাকতে পারে, রুগির জন্য বেড কম থাকতে পারে, কিন্তু গবেষণার সুযোগ এবং সেগুলো বিভিন্ন দেশের জার্নালে প্রকাশ করার ব্যবস্থা থাকতেই হবে। এটির কোন বিকল্প নেই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যান্টিন পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিচলিত হই, অথচ জানিই না প্রতি বছর সম্পন্ন হওয়া শত শত গবেষণা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগ, কোন কমিটি দেখাশুনা করে। অথচ সামান্য একটু আন্তরিকতা থাকলেই, ছাত্র-ছাত্রীদের একটু তাগাদা দিলেই বিএসএমএমইউ শুধু জাতীয় তালিকায় এক নম্বর হওয়া না, বিশ্ব র‍্যাংকিং এও অনেক এগিয়ে যেতে পারে। এবং সেটা আগামি বছরই সম্ভব। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি তদারকি করার জন্য গুটিকয়েক শিক্ষকও কি পাওয়া যাবে না? জাতির পিতার নামে নির্মিত এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা এতটুকু কি আশা করতে পারি না?

__________________________

ডা. জাহিদুর রহমান
সুলেখক।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।