|

”দক্ষিণ ভারতের অখ্যাত ডাক্তারদের বাংলাদেশে এনে প্রতারণা।”রিপোর্টের ভিন্নমত


Published: 2017-09-17 10:45:54 BdST, Updated: 2017-10-22 05:18:13 BdST




মোহাম্মদ কবির হোসেন, বিতর্ক সংগঠক
_________________________________


উপরোক্ত শিরোনামের খবরটি গত 8 মে 2017 জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা ‘ডাক্তার প্রতিদিন’ এ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু খবরটি আমার চোখে পড়ে গত 13 জুলাই। খবরটি প্রথমবার পড়ার পর মনে হলো আমার দেশের সাধারণ মানুষের সাথে এই প্রতারণা? আসলেই সহ্য করার মতো নয়। কিন্তু পরক্ষনেই খবরের ছবিগুলোর দিকে চোখ পড়লো। তারপর পুরো খবরটি আবারো পড়লাম। কিছু প্রশ্ন মনে জাগলো তাই আবার পড়লাম। এভাবে 3 থেকে 4 বার সংবাদটি পড়া হলো এবং বেশ মজা পেলাম।

 

মনে প্রশ্ন জাগল এটা কি কোন হলুদ সাংবাদিকতা নাকি কোন ব্যবসায়ী মহলের কারসাজি। আর যেখানে ছবিসহ ডাক্তারদের নাম পদবী উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে রিপোর্টার বা লেখক পাঠকদের এত বড়ো বোকা বানাবার চেষ্টা করছেন কোন সাহসে। লেখার ৪ ও ৫ লাইনে বলার চেষ্টা করা হয়েছে ”এরা নবীন ডাক্তার, ভারতে ভালো করতে পারেনি বিধায় বাংলাদেশে এসে রোগীদের ঠকাচ্ছেন।” কিন্তু ছবিগুলোর দিকে তাকালে এবং ডাক্তারদের পদবী ও ডিগ্রীর দিকে তাকালে এই লাইন দুটির সত্যতা পাওয়া যায়না। উপরের ৩টি ছবিতে দেখা যায় দিল্লী ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নিউরো ও স্পাইন সার্জারী বিভাগের এসোসিয়েট ডিরেক্টর ডাঃ সোনাল গুপ্ত, হেড অব কার্ডিওভাসকুলার সার্জন ডাঃ দিনেস কুমার মিত্তাল এবং হেড অব রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট ডাঃ ওয়াহেদ জামান তারা ৩জনই বয়স্ক। তাদের ডিগ্রী, পদবী এবং চেহারা কোনটিই এটা প্রমান করেনা যে তারা নবীন বা শিক্ষানবীস ডাক্তার। ম্যাক্স হসপিটালের ওয়েব সাইট এবং ডাক্তারদের নাম গুগলে সার্চ দিয়ে এর সত্যতার প্রমান মিলেছে। এখানে আরেকটি মজার বিষয় হলো কিডনী ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ ডাঃ ওয়াহেদ জামান 2005 থেকে 2014 সাল পর্যন্ত ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে কিডনী বিভাগে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। বাংলাদেশে তার অনেক কিডনী রোগী রয়েছেন। সুতরাং এটা স্পস্ট যে রিপোর্টার বা লেখকের এই লেখাটি উদ্দেশ্যমূলক। অন্যদিকে নিচের ৩টি ছবির দিকে তাকালে দেখা যায় ব্যাঙ্গালোর তথা ভারতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মনিপাল হাসপাতালের ৩ জন ডাক্তার, লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ও হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডাঃ এ অলিথ সিলভান, নেফ্রলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ শংকরণ সুন্দর এবং ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট বিভাগের কনসাল্টেন্ট ডাঃ রঞ্জন শেঠি। একইভাবে তাদের পদবী, ডিগ্রী ও ছবির দিকে তাকালেও এই প্রতিবেদনের সত্যতা মিলে না। গুগল এ ডাক্তারদের নাম সার্চ দিয়ে দেখা গেছে এরা সত্যিকারের অভিজ্ঞ ডাক্তার।

 


প্রতিবেদনের অন্য এক জায়গায় বলা হয় হয়েছে ‘প্রতারক চক্র অনামী অদক্ষ ডাক্তারদের বিশাল ডাক্তার বিজ্ঞাপন দিয়ে রোগী ঠকিয়ে ব্যবসা করছে’। কথাটির সাথে সমমত প্রকাশ করতে পারলাম না। কারণ প্রতিবেদক হয়তো অবগত আছেন যে বাংলাদেশে বিদেশী ডাক্তার আনতে হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। ভারতের হাসপাতালের আবেদন, ডাক্তারদের সকল সার্টিফিকেট এর কপি ও ছবিসহ বায়োডাটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর বিএমডিসি অনুমতি সাপেক্ষে অনুমতি প্রদান করে। পরবর্তীতে একই নিয়মে দ্বিতীয়বার বিএমডিসিতে কাগজপত্র জমা দিতে হয়। বিএমডিসি অনুমতি দিলেই কেবল ডাক্তারগণ বাংলাদেশ ওপিডি করতে পারেন। অন্যথায় নয়। তবে এ কথা সত্য যে বাংলাদেশের কিছু অসাধু দালাল চক্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা বিএমডিসি’র অনুমতি ছাড়াই বিদেশী ডাক্তার দিয়ে ওপিডি করিয়ে থাকেন। এদের চিহ্নিত করে ধরা প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি না নিলেই কেবল অদক্ষ এবং শিক্ষানবীস ডাক্তার আনা সম্ভব। কিন্তু যেসব ডাক্তার অনুমতি সাপেক্ষে আসেন তাদেরকে কোনভাবেই অদক্ষ বলা ঠিক নয়।

 

প্রতিবেদনে ডাঃ দেবী শেঠি, ডাঃ বিন্দু কুট্টি এবং ডাঃ জনার্দন রেড্ডি কে অধ্যাপক খেতাব দিয়ে ভারত গৌরব ডাক্তার বলা হয়েছে। এটা স্বীকৃত যে তারা স্ব স্ব অবস্থানে ভালো ডাক্তার। প্রশ্ন হলো ভারতের আয়তন বাংলাদেশের প্রায় 20গুন। লোকসংখ্যা প্রায় 140 কোটি। সেখানে কি এই তিনজন ডাক্তারই সেরা? লেখক কেন এই তিন জনকে এত বড় বানিয়েছেন? তার কী উদ্দেশ্য? ডাক্তার দেবি শেঠি 1989 সালে কোলকাতায় বিরলা হাসপাতালে তার কর্মযজ্ঞ শুরু করেন। কিছুদিন পর তিনি মনিপাল হাসপাতালে মনিপাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মনিপাল হসপিটাল তখন দেবি শেঠি কে দিয়ে বাংলাদেশে মার্কেটিং শুরু করে। তিনি তখন বাংলাদেশে আসতেন বিধায় তার নাম বাংলাদেশের অনেকেই জানেন। কিন্তু পরবর্তীতে 2001 সালে তিনি নারায়না রিদয়ালয় হসপিটাল প্রতিষ্ঠা করেন এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশের বহু রোগী এখনো তার কাছে যায়। কিন্তু কেউ এখন আর দেবী শেঠির দেখা পান না। কারণ তিনি দেবতা সেজে হাসপাতালের দোতলায় বসে থাকেন। কেউ সরাসরি তার দেখা পান না। নিচে জুনিয়র ডাক্তাররা সব কিছু সমাধান করার পর যদি মনে করেন দেবীর কাছে যাওয়া উচিত তাহলেই কেবল দেব দাকে দেখার সৌভাগ্য হয়। না হয় জুনিয়র ডাক্তারদের চিকিৎসা নিয়েই দেশে ফিরে আসতে হয়। গত 15 জুন থেকে 24 জুন নারায়না হসপিটাল সফর করে স্বচক্ষে বিষয়টি অনুধাবন করলাম। দেখলাম অসহায় বাঙ্গালী দেবি শেঠির নামে তার হাসপাতালে কিভাবে লাখ লাখ টাকা জমা করছেন। অথচ সার্জারী বা এনজিপ্লাস্টির পর দেবি শেঠি এরবার দেখতেও আসেন না। তাহলে কেন দেবী শেঠির কাছে যাওয়া? একথা সত্য যে একটি হসপিটাল থেকে ৪টি হসপিটালের মালিক দেবি শেঠি’র পক্ষে দাপ্তরিক কাজ বাদ দিয়ে রোগী দেখা সম্ভব নয়। তিনি শুধুমাত্র 2/1টি জটিল শিশুদের সার্জারী করে থাকেন। কিন্তু একথা আমাদের বাঙ্গালীদের কে বোঝাবে? আবার বলা হয়ে থাকে দেবি শেঠির হাসপাতালে খরচ অনেক কম। সরেজমিনে দেখা গেছে ব্যাঙ্গালোর এর অন্যান্য হসপিটাল যেমন এ্যাপোলো, ফরটিস, মনিপাল, কলম্বিয়া এশিয়া এসব হাসপাতাল থেকে রেট বাড়িয়ে দিয়ে পরে কমিয়ে দেয়া হয়। আবার কমাতে গেলে দেবি শেঠির সাথে দেখা করার জন্য ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় হয়ে যায়। অতপর দেব দা’র দেখা মিললে তিনি কিছু কমিয়ে দিয়ে বাঙ্গালীর সিম্পেথি নেয়ার চেষ্টা করেন। ঐসময় রোগীরা অন্য হাসপাতালে যাবার বা খরচ চেক করার সুযোগ পান না। কারণ তার আগেই টেস্ট বা অন্য কিছুতে তাদের অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। অন্য হাসপাতালে গেলে আবার শুরু থেকে শুরু করতে হতে পারে। এভাবেই দেবি শেঠির কাছে বাংলাদেশের মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। আর দেব দা টাকার পাহাড় করে ভারত বিখ্যাত হচ্ছেন। রোগীদের সাথে কথা বলে বুঝা গেল নারায়না হার্ট ইন্সটিটিউট, মজুমদার হসপিটাল, নারায়না চক্ষু হসপিটাল, স্পর্শ হসপিটাল এ চারটি হাসপাতালের 50% রোগী বাঙ্গালী এবং মজার বিষয় হলো এর মধ্যে 70% রোগী চট্টগ্রামের। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দি চৌধুরীর বন্ধুখ্যাত ডাঃ দেবি প্রসাদ শেঠি এ চারটি হসপিটালের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
ফিরে আসি মুল প্রসঙ্গে। যা নিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম সেই প্রসঙ্গে কিছু কথা না বললেই নয়। যে লেখাটি নিয়ে আমার এই লেখা, সেই প্রতিবেদনটি যদি সত্য হতো তাহলে অবশ্যই মানুষের কল্যাণে আসতো। কারণ প্রতিবেদন, কলাম বা রিপোর্ট এসব সাধারণত মানুষের কল্যাণ কিংবা উপকারের জন্যই লেখা হয়। কিন্তু সেটা যদি হয় নিজের ব্যবসাকে বড় করার জন্য অথবা কাউকে ছোট করার জন্য তাহলে সেটা মানুষের উপকারে তো আসেই না, বরং ক্ষতি হয় বেশি। আমাদের দেশে অনেক স্বনামধন্য ডাক্তার রয়েছেন।

 

কিন্তু তারপরও আমরা চিকিৎসার জন্য বিদেশে লাইন ধরছি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা নেত্রী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, আমলা, ব্যবসায়ী, চাকুরীজিবী কেউই এ যাওয়া থেকে বিরত থাকছি না। আমরা সহজে ডাক্তারের কাছে যাইনা। কিন্তু যখন যাই তখন আর আমাদের অসুখ ভালো হবার গ্যারান্টি থাকেনা। তাই দেশীয় ডাক্তারদের অবিশ্বাস বা অগ্রাহ্য করে বিদেশে রওনা হই। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং ভারতে আমাদের রোগীরা বেশি যায়। তবে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্তদের মধ্যে ভারতেই বেশি রোগী যাতায়াত করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা বিদেশে গিয়ে কি ভালো চিকিৎসা পাচ্ছি? তাছাড়া আমরা সবাই কি জটিল অসুখ নিয়ে বিদেশে যাচ্ছি? ধরা যাক আমাদের দেশ থেকে 100 জন রোগী ভারতে গেল। সেখানে দেখা যায় 10 জন জটিল রোগী, 30 জন ভ্রমনকারী যারা সুযোগ পেলে ডাক্তার দেখিয়ে আসেন এবং বাকি 60 জন রোগী রোগী হিসেবে যান শুধুমাত্র একটি ভালো পরামর্শের জন্য। ফলে দেখা যায় আমাদের প্রতি 100 জনে জটিল বা কঠিন রোগী যাচ্ছেন মাত্র 10 জন। 30 জন ট্যুরিস্ট এবং বাকি যে 60 জন তারা যে পরামর্শের জন্য যাচ্ছেন তা যদি এদেশে বসে পেয়ে যান তাহলে তাদের আর বিদেশে যাবার দরকার হয় না। ফলে এই 60 জনের যাওয়া আসা এবং ভিসা প্রসেস বাবদ যে খরচ তা দেশেই থেকে যাচ্ছে। এখন ভারতীয় ডাক্তার বাংলাদেশে এসে যদি 100 জন রোগীকে পরামর্শ দেন এবং সেখান থেকে যদি 60 জন রোগীর যাবার প্রয়োজন না হয় তাহলে তো আমার দেশেরই লাভ, সর্বোপরি রোগীও লাভবান হচ্ছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভারতের ডাক্তারগণ নিজ খরচে কেন বাংলাদেশে আসছেন? একথা সত্য বাংলাদেশ অনেক আগ থেকেই চিকিৎসার জন্য ভারতমুখী। এটাও সত্য যে চিকিৎসা বিদ্যায় ভারত বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে।


ভারতে অনেক বড় বড় হাসপাতাল তৈরী হয়েছে এবং এগুলো শুধু ভারতের রোগীদের উপর নির্ভরশীল না থেকে সারা পৃথিবীর রোগীদের আকর্ষন করার চেষ্টা করছে। প্রতিটি হাসপাতালের আন্তর্জাতিক রোগী পরিসেবা নামে আলাদা উইংস রয়েছে।এদের কাজ হলো হাসপাতালের বড় ডাক্তারদের নিয়ে বিভিন্ন দেশে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প পরিচালনা করা। যাতে করে একজন রোগীও যদি ভারতে যায় তাহলে যেন তাদের হাসপাতালে যায়। আজকের দেবি শেঠি যেভাবে তৈরী হয়েছেন এটা ঠিক তারই ধারাবাহিকতা। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশে যদি কোন ভারতীয় ডাক্তার বা হাসপাতাল ক্যাম্প পরিচালনা করে তাহলে বুঝতে হবে তারা ঐ 10 শতাংশ জটিল ও সার্জিক্যাল রোগীর মার্কেটিং করছে। ফলে তারা যেমন প্রচার চালিয়ে লাভবান হচ্ছে আমাদেরও যেসব রোগীর যাওয়াটা জরুরী নয় এমন রোগীদের যাওয়া নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে রোগী ও দেশ আর্থিক লাভবান হচ্ছে।
বাংলাদেশের সাধারণ রোগীরা বিদেশে গিয়ে নানান জটিলতায় ভোগেন। বিশেষ করে কোথায় ভালো ডাক্তার আছে? কোন ডাক্তার কোথায় বসেন? এসব জানা এবং যাবার পূর্বে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে যাওয়া এসব সাধারণ রোগীরা একেবারেই বোঝেন না। ফলে বিদেশে গিয়ে তাদের ডাক্তার খুঁজতে এবং সঠিক এপয়েন্টমেন্ট পেতে সময় ও টাকা দুইই নষ্ট হয়। এসব রোগীদের সেবা পরামর্শ দেবার জন্য ইতিমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।


যেমন ঢাকায় বাংলাদেশ হেলথকেয়ার আইটি (01705321117) এবং চট্টগ্রামে এশিয়ান হেলথকেয়ার (01744256101)। এদের কাজ হলো রোগীর জন্য সঠিক ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট এর ব্যবস্থা করা, রোগী যেদিন পৌঁছাবে ঠিত তার পরদিন থেকে যেন সেবা নিতে পারে তা নিশ্চিত করা, কম ভাড়ায় হোটেল, গেস্ট হাউজ বা সার্ভিস এপার্টমেন্ট বুকিং করা, এয়ারপোর্ট থেকে হসপিটালের গাড়িতে রোগীকে নিয়ে যাওয়া ও দিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এছাড়াও এধরনের প্রতিষ্ঠান রোগীর মেডিকেল ভিসা প্রসেসিং এ সহযোগিতা করে। তবে আমরা চাই না আমাদের দেশের কোন রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাক। আমরা চাই আমাদের ডাক্তারদের বিশ্বাস করতে এবং তাদের চিকিৎসা সেবাতেই আমরা উপকৃত হতে, সুস্থ্য হতে। আমরা আমাদের সম্মানিত চিকিৎসকদের সম্মান করতে চাই। তাদের ভালোবাসা চাই, সেবার মানসিকতা চাই। আমরা আমাদের ডাক্তারদের কাছে রোগী হিসেবে সেবা পেতে চাই, মক্কেল হিসেবে নয়। তবেই আমাদের রোগীদের এই বিদেশগামীতা কমিয়ে আনা সম্ভব । কিন্তু তারপরও কেউ যদি ভারতে চিকিৎসা নিতে যান এবং ভারতের কোন ডাক্তার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে যদি আমাদের দেশে এসে চিকিৎসা পরামর্শ দেন তাতে দোষের কিছু নেই। তাবে যারা যাবেন তারা যেন সঠিক তথ্য জেনে সঠিক ডাক্তারের কাছে যান, এবং অল্প সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে দেশে ফিরে আসেন এই প্রত্যাশা থাকবে সবার জন্য।


_______________________________________


মোহাম্মদ কবির হোসেন, বিতর্ক সংগঠক


Ex. Chief Coordinator, ATN Bangla Debate Competition
Chairman, Bangladesh Debate Academy

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।