Ameen Qudir

Published:
2018-11-06 06:52:31 BdST

অাসগর আলীর ডাক্তার ভুল চিকিৎসা করেন নি: তারপরও তার ছবিতে জুতো বসিয়ে মিথ্যার বেসাতি


এভাবেই উৎকট ভয়ঙ্কর ভঙ্গীতে বাংলাদেশের কিছু উগ্র সন্ত্রাসী অপপ্রচারকারী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে নোংরা প্রচারে লিপ্ত। আসগর আলীর নির্দোষ চিকিৎসকের ছবি বিকৃত করে জুতো বসিয়ে প্রোপাগান্ডার ছবি আমাদের দপ্তরে আছে। অনলাইন সংবিধির কারণে সেটি না ব্যবহার করে প্রতিকী উগ্রদের ছবি প্রকাশ হল। বা/স ।

 

 

 

ডা. রাহাত আহমেদ
_________________________

কিছুদিন আগে আসগর আলী হাসপাতালে একটি শিশু মারা যায় ডেঙ্গু তে । সেইখানে সে বাচ্চার মা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ছবি এডিট করে তার মুখের সামনে একটি জুতার ছবি বসিয়ে ফেসবুকে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনা করেন! এতে সবাই সেই চিকিৎসককে ইচ্ছামতো গালমন্দ করে তার গুষ্টি উদ্ধার করে ফেলেছেন ! জানি, বাচ্চা হারানোর ক্ষত অপূরণীয় কিন্তু না জেনেই উনি ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেন! হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিল ৫০% শতাংশ মওকুফও করে দিয়েছিলেন । তিনি এইটাকেও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে বললেন যে, নিশ্চয়ই ভুল চিকিৎসা হয়েছে নাহলে কেন বিল মওকুফ করা হলো !

কয়েকদিন আগে সেন্ট্রাল হাসপাতালে রাজধানীর একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফোর ফাইভের এক ছাত্রী মারা যায় ডেঙ্গু তে ! এতে তার সহপাঠিনীরা সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ফাঁসির দাবী করেন !

সম্মানিত দেশবাসী, (বাংলায় বলছি)
বেশীকথা বলবোনা, শুধু এতটুকুই বলতে চাই, ডেঙ্গু জ্বর হলে ৩ টি ঘটনা ঘটতে পারে...
১। ডেঙ্গু জ্বর (৯৯% ক্ষেত্রেই) : এইটা ভালো হয়ে যায় ৭-১০ দিনের মধ্যে । প্লেটলেট খুবই কমে গেলে ব্লাড দেয়া লাগতে পারে তবে সাধারণত লাগেনা ।

২। ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর (১% ক্ষেত্রে) : এইখানে নাক মুখ, চোখ অথবা শরীরের অভ্যন্তরে ব্লিডিং হইতে পারে ! তখন ব্লাড( প্লেটলেট) দেয়া লাগে এমনকি মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে !

৩। ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম ( নগন্য সংখ্যক) : হলে আর রক্ষা নাই ! তাড়াতাড়ি ICU তে নিতে হবে ! এমনকি লাইফ সাপোর্টও দেয়া লাগতে পারে ! চিকিৎসকদের আর কিছুই করার থাকেনা ।
তিনটি রোগের ক্ষেত্রেই প্রচণ্ড শারিরীক ব্যথাসহ যেকোনো সময় রোগী খারাপ হয়ে যেতে পারে, এখনি ভালো তো এখনি খারাপ এমনকি মৃত্যুও !

লক্ষ্য করার ব্যাপার হচ্ছে, তিনটি রোগের চিকিৎসাই এক ! আর সেইটা হলো শুধুমাত্র প্যারাসিটামল(নাপা/এইস) যা সিরাপ, ট্যাবলেট এবং ইঞ্জেক্টেবল স্যালাইন ফরমে পাওয়া যায় । আর হয়তো খুব বেশী হলে ফ্লুইড রিপ্লেসমেন্ট করা লাগে । এর বাইরে কোন চিকিৎসা দেয়ারই সুযোগ নাই ! তাহলে ভুল চিকিৎসা টা হলো কোথা থেকে ? এই অভিযোগ উঠার তো কোন প্রশ্নই আসেনা !

আমাদের দুইজন তরুণ চিকিৎসকও কয়েকমাস আগে আইসিইউ তে থাকাকালীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন ডেঙ্গুতে । কই, আমাদের দেশের বড়বড় চিকিৎসকগন তো এই দুইজন তরুণ চিকিৎসকদের বাঁচাতে পারেনি । কই, আমরা তো কোন মানববন্ধন করিনি এমনকি সেই বড় বড় চিকিৎসকদের ফাঁসির দাবীও করিনি ।

আজকে তোমরা যারা আন্দোলন করছো, হয়তো একদিন নিজেরাও চিকিৎসক হবে, সেইদিন বুঝতে পারবে, এই আন্দোলনটা কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল ! তোমাদের আন্দোলন হওয়া উচিৎ ছিল নিজেদের বিরুদ্ধে ! মানুষ যাতে তার আসেপাশের ফুলের টব, পানির পাত্র,ড্রেন ইত্যাদি পরিস্কার রাখে যেখানে পরিস্কার পানি জমতে না পারে ! যাতে সিটি কর্পোরেশন থেকে নিয়মিত স্প্রে করা হয় ! দিনের বেলায়ও মশারী দিয়ে ঘুমাতে, যাতে এডিস মশা কামড়াতে না পারে !
( এইকথা গুলো বিশ্বাস না হলে, আপনার কাছে গুগল আছে, ইন্টারনেট আছে সেখানে সার্চ দিয়ে দেখে নিন সারাবিশ্বে ডেঙ্গুতে মর্টালিটি রেট কত? )
বিঃদ্রঃ নিচে আপনাদের চিকিৎসার শেষ ভরসাস্থল ইন্ডিয়ার একজন দুঃখভারাক্রান্ত চিকিৎসকের স্ট্যাটাসের ছবি দেয়া হলো সাথে জুতা খাওয়া সেই নির্দোষ চিকিৎসকেরও !

____________________________

লেখক ডা. রাহাত আহমেদ । গায়ক, লেখক। লোকসেবী চিকিৎসক। প্রাক্তন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ।


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়