|

মাইজদীর ক্লিনিকে সিজার বিল ৪৮০০০ টাকা : ‌'কসাই' ডাক্তার পেয়েছে ৩০০০ টাকা


Published: 2018-03-20 12:09:59 BdST, Updated: 2018-04-20 11:10:37 BdST


ডা. মিথিলা ফেরদৌস
_______________________

মাইজদীর এক ক্লিনিকে সিজারের বিল ৪৮০০০ টাকা।এইবার জনগনের বিষোদগার ডাক্তারদের উপর,কসাই শালা!বিলটা খুটিয়ে দেখলাম । সেখানে,ডাক্তারকে দেয়া হয়েছে ৩০০০ টাকা। বাকি সব ক্লিনিকের হাবিজাবি বিল।

যে ডাক্তার মুল শ্রমটা দিলো,যে ডাক্তার একটা অপারেশন করে কত টেনশন নিয়ে থাকে,একটা অপারেশনের পুরা দায়ভার যে ডাক্তারের উপর,যে ডাক্তারকে অপারেশন করার দশবছর পরেও অন্যকোন সমস্যা হলে রুগীর লোকের গালি শুনতে হয়,তাকে নিয়ে ক্লিনিক ওয়ালারা শুধু ব্যবসা করেই গেলো।

জনগণ এইটুকু কখনওই বুঝলোনা ডাক্তারদের নিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিক,নামকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো কতবড় বাণিজ্য ফেঁদে বসেছে!!

ঢাকা শহরের নামকরা এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে, একজন রেডিওলোজিস্ট একটা আল্ট্রা করে পান ২০০ টাকা,রুগীর কাছ থেকে রাখা হয় ১৮০০ টাকা।একটু চিন্তা করে দেখবেন কি বাকি টাকা কার পকেটে যাচ্ছে?আপনার চোখ শুধু ডাক্তারের ওই ২০০ টাকার উপরেই পরবে।আপনারা ভিতরটা কখনও জানার চেষ্টা ও করেন না।

কিছুদিন আগে, এক রুগীকে পই পই করে বলে দিলাম,একটু কষ্ট করে হাসপাতাল থেকেই আল্ট্রা করে আনেন,আমার হাসপাতাল সরকারি নামে মাত্র টাকা লাগে,কিন্তু ভাল ভাল ডাক্তার রিপোর্ট করে,বাইরে গেলে চার পাঁচগুণ টাকা লাগবে উলটা পালটা রিপোর্ট হয়।যাইহোক এই ক্ষেত্রে অনেক রুগী দালালের খপ্পরে পরে বাইরে থেকেই করে আনে,সে ক্ষেত্রে দালাল যে টাকা পায় তার অর্ধেকও যে আল্ট্রা করে সে পায় না।হাসপাতালের চারিদিকে দালাল ভরা।

কয়েকদিন আগে এক রুগী আল্ট্রা হাসপাতাল থেকেই করে আনলো, ব্রেস্টে ছোট একটা গোটা।FNAC করতে দিলাম,বার বার বলে দিলাম,একটু অপেক্ষা করে হাসপাতাল থেকে করলে খরচ কম পড়বে।সেও কোন দালালের খপ্পরে পরে নামকরা এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আল্ট্রা গাইডেড এফ এন এ সি করে আনলো।টাকা লেগেছে ৪০০০ টাকা।হাসপাতালে শুধু FNAC তে ৩০০ টাকা নেয়,হাতে না পেলে রুগী ফেরত দেয়।আমি বুঝে শুনে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিই।এই রুগীর উপর রাগ হলাম,ডাক্তার কে প্রাইভেটে ৫০০ টাকা দিতেই কষ্ট, টেস্টে হাজার টাকা খরচ করতে খারাপ লাগলো না?

আরেকটা ব্যাপারে রুগীদের সতর্ক করতে চাই,অনেকসময় বাইরে এক্সে করলে দেখবেন,রিপোর্ট ছাড়াই আপনাকে শুধু এক্সে প্লেট ধরায় দিবে।কিন্তু ডাক্তারের রিপোর্টের নাম করে ঠিকই টাকা রেখে দিবে।দয়া করে রিপোর্ট ছাড়া এক্সে প্লেট নিলে রিপোর্ট বাবদ যে টাকা রাখে তাতে ছাড় দিবেন না।প্লেট দেখে একজন ফিজিশিয়ান রিপোর্ট বুঝলেও,রিপোর্ট করার দায়িত্ব রেডিলওলোজিস্টের।তার নাম করে,সেন্টারগুলো টাকা নিলেও রিপোর্ট দেয় না।এইসব নিয়ে কারো মাথা ব্যথা দেখিনা।সব দোষ নন্দদের ঘাড়ে চাপায় সবাই মজা নেয়।নন্দরাও চুপ।

এবার আসি কমিশন নিয়ে,এইখানেও রুগীদের ডাক্তাদের নিয়ে কিছু ভুল ধারণা আছে।কিছু কিছু নামকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ডাক্তারদের বসায়,আর রুগী দেয়,আমার দেখা বেশিরভাগ ডাক্তার সেখান থেকে কখনও কমিশন নেন না।কিন্তু ডাক্তারদের নামে কমিশনের টাকা সেন্টারগুলো ঠিকই রেখে দেয়।হ্যা চাইলে ডাক্তাররা নিজেই চেম্বার ভাড়া করে বসতে পারেন,তাতে কি হবে?রুগীরা হচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারমুখি,সেইসব ডাক্তারদের রুগী হবেনা।ভাই সৎ হয়ে বেচে থাকাটা খুব কঠিন।

আরেকটা ব্যপার ভেবে দেখেন,কোন ডাক্তার টেস্ট করতে দিলেন কল্যাণপুর থেকে,আপনি সেইটা করে আনলেন ধানমন্ডি থেকে।আপনার কি ধারনা,সেই সেন্টার ডাক্তার কে যেচে এসে কমিশন দিয়ে যায়?অথচ কমিশনের নামে আপনার কাছ থেকে তারা টাকা ঠিকই কেটে রাখে।সেই সব নিয়ে সচেতন জনগনের মাথা ব্যাথা নাই।

জনগনের কষ্ট শুধু একজায়গায়,দুই মিনিটে কলমের খোচায় কেন ৫০০ টাকা নেয়া হলো।এই দুইমিনিটের কলমের খোঁচার জন্যে দুই যুগ একটা ডাক্তারকে অমানবিক পরিশ্রম করতে হয়েছে,দুই মিনিটে কলমের খোঁচা তার তার পেশা,দুইমিনিটের কলমের খোঁচায় কত রুগী বেচে যায়,কত রুগীর কত কষ্ট লাঘব হয়,যদি কলমের খোঁচা এতই সহজ হয়,তাহলে বেটার নিজেই কলমের খোঁচা মেরে নিজের চিকিৎসা নিজেই করে ফেলুন,৫০০ টাকা বাচান।

___________________________

ডা. মিথিলা ফেরদৌস , সুলেখক।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।