Ameen Qudir

Published:
2017-11-11 08:46:39 BdST

অনিরাপদ হাসপাতাল: " ও সিস্টার ,ওই রানী,ওই আন্টি" শুনতে হয় নারী ডাক্তারদের


 

 


ডা. মিথিলা ফেরদৌস

___________________________________

হাসপাতালের করিডোর দিয়ে হাটার সময় প্রতিদিন কেউ না কেউ জিগায় 'সিস্টার অমুক ওয়ার্ড, অমুক রুম,অমুক ডাক্তার কই বসে।প্রতিদিনই শুনতে হয় শুনিও।এখন কিছুই লাগেনা।

 


আজও যথারীতি এক ওভার স্মার্ট পোলা জিগায়,ইস্কিউজ মি সিস্টার! পোলারে দেখেই মনে হইছে টিজিং।কইলাম,আমি সিস্টার না।পোলার মুখে শয়তানের হাসি,কয় তো কি হইছে,এরপর ভাংগা ইংলিশ বাংলা মিশায় কথা কওয়া শুরু করলো,হাসপাতালের আশে পাশে আমাদের সিকিউরিটি দেয়ার মত কেউ নাই,আমি কথা না বলে হন হন করে হাটা দিলাম,পিছন থেকে শুনতেছি,বলতেছে,ওই রানী,ওই আন্টি।আমি জানি, আমি কিছু বললেই সে গ্যাঞ্জাম লাগাবেই।

সে তাই চাচ্ছে।আমি প্রতিবাদ করতেই পারতাম,তাতে এটা সিনক্রিয়েট হতো,পত্রিকাওয়ালারা খবর বানাইতো,আমার বিপক্ষে মনগড়া খবর বানাইতো,তারপর ফেসবুকে আমাকে নিয়ে গালাগালির ঝড় উঠতো।যা এর আগেও পাবলিক করছে,কিন্তু কেউ আসল ঘটনা জানার চেষ্টাই করতো না।তাই কিছুই বলার নাই কিছুই করার নাই।

আপনারা যারা এই কুকুরদের হাসপাতালে লেলিয়ে দিচ্ছেন,তারা জানেন না প্রতিদিন কত ডাক্তার মেয়ে এইসব টিজিং সহ্য করে।আপা ডাক নিয়া যারা লাফাইছেন,সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দিয়ে রাখলাম,একদিন আপনার বোনকেও যেন কেউ এমন হেনেস্তা করে,সেইদিন বুঝবেন শুধু আপা ডাকের জন্যে কিছুই হয়না,হাসপাতালের ভিতর হাজার কুকুরের আনাগোনা।হাসপাতাল দিনে দিনে মেয়েদের জন্যে অনিরাপদ হয়ে উঠতেছে।জানি বলে লাভ নাই।মেয়েদের নাইট করতে হয়,ইভনিং করতে হয়।একবার ভেবে দেখেন আপনার আপন বোনটা যদি এমন অনিরাপদ হতো?


_____________________________

ডা. মিথিলা ফেরদৌস। সুলেখক।


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়