|

ভোলায় ডাক্তার গ্রেপ্তার : আহা কি আনন্দ! চিকিৎসা তো সাংবাদিকরাই দিতে পারে !


Published: 2016-11-25 23:51:02 BdST, Updated: 2017-10-22 05:16:19 BdST

 

                          ডাক্তার লাঞ্ছনায় জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ।

 

 

 

 


ডা. সাঈদ সুজন
_____________________________

সব পত্রিকা গুলোর সরব নিউজ “ ভোলায় ভূল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসক গ্রেপ্তার”। আহা, কি মধু।। হাতে নাতে গ্রেপ্তার।। তা সাংবাদিক সাহেব, আপনি কি বলে দিবেন- আদিত্য নামের যে বাচ্চাটা মারা গেছে, তার সঠিক চিকিৎসা কোনটা? কি মেডিসিন দিলে সেটা সঠিক হতো??

আদিত্য নামের যে শিশুটি মারা গেছে, তার কয়েকদিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। যখন রোগিকে ডাঃ কাদের কে দেখানো হলো, কাদের তাকে ইঞ্জেকশন Ceftriaxone ( স্কয়ার কোম্পানির সেফট্রন) দেয়ার অর্ডার দিয়েছিলেন।। সেই ইঞ্জেকশন দেয়ার ফলে বাচ্চাটি মারা যায়... ।

যেই ইঞ্জেকশনকে ভুল চিকিৎসা বলছেন, এই একি ইঞ্জেকশন দিয়ে দৈনিক হাজার, লাখ মানুষকে চিকিৎসা করা হচ্ছে, এবং সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরছে।। সারা বাংলাদেশে গড়ে যদি ১০০০ প্রকারের ঔষধ থাকে, ৯৯৯টা মেডিসিন বিক্রী করে যে sell হয়, শুধু ceftriaxone একাই প্রায় তার চেয়ে বেশি sell হয়। এখানে ডাক্তার তো শুধু মেডিসিন লিখে দিয়েছে, মেডিসিন তো ডাক্তার বানায় নাই।আর এই মেডিসিন বাচ্চাটার শরীরে Hypersensitivity রিএকশন হলো, এটা অন্যের শরীরে কিছুই হয় না।। যদি ডাক্তার মেডিসিন লিখে দোষী হয়, যারা এই মেডিসিন বানিয়েছে (স্কয়ার ফার্মা) , তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করে দিন।। জানি, সেই মুরোদ আপনাদের হবে না, পাবেন হাতের কাছে দূর্বল ডাক্তারকে।।

আসুন জেনে নেই , বাচ্চাটা কিভাবে মারা গেলো।। সেফালোস্পোরিন গ্রুপ বিটা ল্যাক্টাম এন্টিবায়োটিকের মধ্যে সবচেয়ে বেশী নিরাপদ... । তবুও প্রতি একশ জন মানুষের মধ্যে ১-৩ জন, এটা পুশে বিরূপ রিএকশন হতে পারে, সেটা সামান্য শরীরে দানা ওঠা থেকে শুরু করে, শ্বাসকষ্ট, কিডনি ড্যামেজ এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।।

এটা মেডিসিন শরীরে পুশ করার আগে বুঝার কোনো উপায় নাই।। রোগীকে সুস্থ্য করতে গিয়ে ইঞ্জেকশন লিখাও বিপজ্জনক।। এই ঘটনা মন্ত্রী পুত্র থেকে শুরু করে কসাইয়ের ঘরের যে কারো শরীরে এমন টাইপ hypersensitivity হতে পারে... । এতে ডাক্তারের কি দোষ আছে, কারো মাথায় যায় না।।

পৃথিবীতে মেডিকেল সাইন্স অনেক এগিয়েছে ঠিকি । কিন্তু কিছু রোগের চিকিৎসার মূল তত্ত্ব এখনো এখনো অজানা দুনিয়ার কাছে। যেমন- জলাতঙ্ক (Hydrophobia) বা র‍্যাবিস (Rabies) । এই রোগ হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই রোগী ১০০% মারা যাবেই । দুনিয়ার সব চিকিৎসাকে ফেইল করে দেয় এই রোগী । এখন রোগীর সিম্পটম রিলিফ করার জন্য যদি ডাক্তার কোনো চিকিৎসা দেন, এবং পরে যদি রোগী মারা যান , সেটাও আমাদের দেশের চিকিৎসকদের দোষ ।

দুঃখ এখানেই যে – আমাদের দেশের মানুষ গুলো রোগ সম্পর্কে খুব কম জানে। কারন অন্যান্য দেশের মানুষের মত Basic medical education শেখানো হয় না এদেশে । তাই ডিজেজ প্রিভ্যালেন্স ও Prognosis সম্পর্কে কোনো আইডিয়া করতে পারে না তারা। তার উপর তাদের পিঞ্চ দিতে lateral প্রেশার দেয় সাংবাদিক গুলো । যাদের নলেজ নাই, কিন্তু ডিজেজ নিয়ে লেজ নাড়ানো ( লেখার) অধিকার আছে। তাই ভুল ব্যাখ্যায় বিশ্ব সেরা পদবী প্রাপ্ত হয়ে আছে।

চিকিৎসা দিলে নন মেডিকেলরা ভুল ধরবে।। ডাক্তার তাহলে চিকিৎসার ভার তাদের উপর ছেড়ে দিলেই হয়।।

“দ্যা গার্ডিয়ান” পত্রিকার এক সাংবাদিকের সরল স্বীকারোক্তি - "Journalist always gets guilty pleasure" । এই প্লেজার তারা অযোগ্য হয়েও নিতে ব্যস্ত সবসময়। চিকিৎসা বিজ্ঞান যেহেতু খুব সেন্সিটিভ ইস্যু , তাই একে নিয়ে কাল্পনিক কাহিনী রচনা করে হিট হতে চান তারা। কিন্তু লেভেল বুঝতে হবে ।

“দ্যা ওয়ার” এর প্রখ্যাত সাংবাদিক “ নরম্যান মেইলার” বলেছেন-
"JOURNALIST as someone who is -not talented enough to be a novelist, not smart enough to be a lawyer, and his hands are too shaky to perform operations.”

তবুও তারা লিখে লিখে যাচ্ছেন । জনগনকে ধুলাপড়া দিয়ে হিট হওয়ার চেষ্টা করছেন । এখনি সময় সোচ্চার হওয়ার । ভুল বুঝানোর দিন শেষ । সত্যি জানার অধিকার আছে সবার।

__________________________

 

লেখক ডা. সাঈদ সুজন । সুলেখক।

Director , Endeavour Orientation

Studies MS Urology at Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।