|

এমবিবিএস পাশে যত কষ্ট : পাশের পর আসল কষ্ট


Published: 2016-12-21 11:03:33 BdST, Updated: 2017-09-23 11:27:08 BdST

ছবি একজন প্রাকটিসিং ডাক্তারের মডেল হিসেবে নেয়া।

 

 

___________________________________

নাভীম কবির প্রতীক , চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

_________________________________

বাংলাদেশে অভিভাবক পর্যায়ে ছেলেমেয়েকে প্রকৌশলী কিংবা ডাক্তার বানানোর একটা প্রচলন ছিল কয়েক বছর আগেও।কিন্তু সেই অবস্থাটা দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে।কিছুটা পরিষ্কার করে বললে মেডিকেলে পড়ানোর ক্ষেত্রে।

কারণ বিশ্লেষণে গেলে অনেক গুলো কারণই সামনে আসবে যার প্রায় সবগুলোই বাস্তবধর্মী। একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর ডাক্তার হয়ে উঠা পর্যন্ত পড়াশোনার কষ্টগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বাইরের সবাই সেভাবে অনুভব করেনা।

যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় ৬০%নম্বর পাওয়া মানে ফার্স্ট ক্লাস সেখানে পেশাগত পরীক্ষা,আইটেম,কার্ড, টার্ম এ সেখানে ৬০% হল পাশ নম্বর।
উপরন্তু পেশাগত পরীক্ষায় অসপি,লিখিত আরর ভাইভায় প্রতিটি ভাগে আলাদা পাশ আর ফাইনাল প্রফে শর্ট কেস,লং কেসের পুলসিরাত।ভাইভায় অনেক পড়েও স্যারদের কমন ডায়লগ বেসিক ই তো জানা নেই।যেখানে একটা প্রফে পুরো বিষয় মাথায় নিয়ে যেতে হয় সেখানে একটা সেমিস্টারে পাশ করেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা হয়ে যাচ্ছে গ্রাজুয়েট।

তাদের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বেতন লাখ আর না হলেও অনেক ক্ষেত্রেই অর্ধ লাখ।আর তিন তিনটি প্রফ,অজস্র আইটেম,অনেক খুশিকে ত্যাগ করার পুরষ্কার হিসেবে ২০ হাজার
টাকার টাকার বেতন যেটাও অনেক হাসপাতাল দিতে গড়িমসি করে।

সবচেয়ে বিপদে পড়তে হয় মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের যাদের নূন্যতম এমবিবিএসের পরে মাথায় আনতে হয় পোস্টগ্রাজুয়েশন আর বিসিএসের ঝামেলা।তাদের চেম্বার আর খ্যাপের কষ্ট না হয়ই বাদ ই থাকল।অশ্বদৌড়ের মত বয়স যখন এগিয়ে যায় প্রয়োজন দেখা দেয় বিয়ের।অনেকেরই কপালে ঢাকা চুলগুলো উড়তে থাকে।ধার দেনা করে একটা বিয়ে করলেও পোস্টগ্রাজুয়েশন না হলে অনেকেই বিসর্জন দিয়ে দেয় তার দাম্পত্য জীবনের আনন্দময় স্মৃতি গুলো।

তার একসময়ের সহপাঠী রা সেল্ফি দেয় হাওয়াই কিংবা মালদ্বীপের তখন তার দীর্ঘশ্বাস পড়ে বিছানার বুকে ডেভিডসনের পাতা উলটে।

তার সারাজীবন যেখানে কেটে যায় মোটা বইয়ের দোস্তিতে সেখানে একজন ইউএনও এর কাছে যেতে হয় বেতনের সাইন নিতে, দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।সবার সন্তুষ্ট মুখ দেখতে দেখতে সে ভুলেই যায় সে নিজে হেসেছিল কবে?

ছাত্রজীবনে সে যখন আত্নতৃপ্তিতে বলত সে মেডিকেল ছাত্র বা ছাত্রী,আজ তখন ভাবে যখন কেউ পরামর্শ চায় মেডিকেল পড়তে কি করতে হবে,ভাবে কিসের ভরসায় কাউকে ঠেলে দেবে অনিশ্চয়তার ভেলায় ভেসে বেড়াতে?

______________________________

 

নাভীম কবির প্রতীক , চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ । সুলেখক। এমবিবিএস শিক্ষার্থী। নিয়মিত লেখেন ডাক্তার প্রতিদিনে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।