Ameen Qudir

Published:
2019-01-29 13:00:17 BdST

হলুদ সাংবাদিকতার জলন্ত বিবরণরোগীকে টিভি রিপোর্টার শেখাল, ক্যামেরাতে যেন বলে, সকাল থেকে বসে আছি কোন ডাক্তার আসে নাই


 


ডেস্ক
______________________

টিভি রিপোর্টার হাসপাতালের বহিঃ বিভাগে বসা এক রোগীকে শিখিয়ে দিচ্ছেন যে ক্যামেরাতে সে যেন বলে সকাল থেকে সে বসে আছে কোন ডাক্তার আসে নাই। এই ঘটনা দেখার পর এক ডাক্তার তাকে জিজ্ঞেস করেন আপনি এসব কি শিখাচ্ছেন? রিপোর্টার বললেন, অশিক্ষিত মানুষ। শিখিয়ে পড়িয়ে নিচ্ছি, টিভিতে কিভাবে বলতে হয়।
এভাবেই অপপ্রচার চালাচ্ছে মিডিয়া। বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ঘটা এমন ইয়োলো সাংবাদিকতার জলন্ত বিবরণ।

ডা. শেখ মিজানুর রহমান ব্যাচ ৩৮ শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ , সহ.রেজি মেডিসিন;জেনারেল হাসপাতাল, বরিশাল ; সম্প্রতি তার এক প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ইন্টারনেটে। তার অভিজ্ঞতার বয়ান শুনুন:

আজ বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল( সদর হাসপাতাল) বেলা ১০.০০টার দিকে ক্যামেরা নিয়ে একটি জনপ্রিয় টিভির সাংবাদিকরা হাজির। ফিমেইল মেডিসিন ওয়ার্ড এ কোন অনুমতি ছাড়াই এসে ভিডিও করা শুরু। তাদের বক্তব্য হল প্রধান মন্ত্রীর গতকালের ঘোষণার পর তারা রিপোর্ট করতে এসেছেন ।

এর মধ্যে ধরা পড়ল তাদের সাংবাদিক / রিপোর্টার বহিঃ বিভাগে বসা এক রোগীকে শিখিয়ে দিচ্ছে যে ক্যামেরাতে সে যেন বলে সকাল থেকে সে বসে আছে কোন ডাক্তার আসে নাই। এই ঘটনা দেখার পর আমাদের সাথের এক ডাক্তার তাকে জিজ্ঞেস করে আপনি এসব কি শিখাচ্ছেন? তখন সেই সাংবাদিক / রিপোর্টার ব্যাখ্যা দেয় গ্রামের মানুষ কি বলতে হবে বোঝে না তাই বুঝিয়ে দিচ্ছে।
তারপর সেখান থেকে অন্তঃ বিভাগে প্রবেশ করে ভিডিও করা শুরু করে। আর এম ও এর সাক্ষাতকার নেয়।ওয়ারডে রোগির শারীরিক পরীক্ষা করার সময় দেখি ক্যামেরা অন করা। কেউ প্রতিবাদ করছে না। কোন রকমে ওয়ারডে রাউন্ড শেষ করা কারন ক্যামেরার সামনে রোগি এক্সামিনেশন করা যাবে না। সমগ্র হাসপাতালে এক আতংকিত অবস্থা। এরকম রোজ সাংবাদিক রা ওয়ারডে ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে ভিডিও করলে স্বাস্থ্য সেবার গতি বাড়বে না বাধাগ্রস্ত হবে? আর রোগিকে শিখিয়ে ক্যামেরাতে ধারণ করে অপপ্রচার চালালে কি চিকিৎসক রা স্বাচ্ছন্দে সেবা দিতে পারবে? উত্তর জানা নেই।


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়