|

"ডা. হোসনে আরা,অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির মামলা করুন "


Published: 2017-12-09 12:54:41 BdST, Updated: 2018-01-22 14:30:09 BdST

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ডা. শিরিন সাবিহা তন্বী
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

_______________________________

তখন উপজেলাতে পোষ্টিং।উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরী করি।সন্ধ্যেবেলা তৎকালীন শেবাচিম এর গাইনী এন্ড অবস এর বিভাগীয় প্রধানের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করতাম।ম্যাডামের পাশের রুমেই আমি বসতাম।প্রতিটি জটিল কেস নিয়েই কথা হতো ম্যাডামের সাথে।এতে নিজের কাজের স্বস্তি থাকত।ম্যাম ও খুশি হতেন।


একটা ত্রিশ সপ্তাহের প্রেগনেন্সী কেস এলো।আগের আলট্রাসনোর ফাইন্ডিংস ছিল বেবীর হাইড্রোনেফ্রোসিস।আমি অনেক সময় নিয়ে বাচ্চাটা দেখলাম।
অদ্ভুত কেস।


বাচ্চা ভালো আছে।তার কিডনী ঠিক আছে।কিন্তু জরায়ুর মধ্যেই পাশাপাশি বেশ বড় সাইজের দুটো কিডনী।পেলভিকেলিসিয়াল সিস্টেম ডাইলেটেড।
আমি গুছিয়ে লিখলাম।ম্যাডামকে জানালাম এবং এক্সপার্ট ওপেনিয়ন নেবার পরামর্শ দিলাম।
দুদিন পর এক সিনিয়র এক্সপার্ট সনোলজিষ্ট ফোন দিলেন।আমাকে এপ্রিশিয়েট করলেন।বললেন,তুমি ৯৫% সঠিক রিপোর্ট করেছ।এক্সপার্ট ওপেনিয়ন ছাড়াও গাইনোকলিজষ্টের সমস্যা হতো না।

 

যেহেতু এই সকল রুগীগন বেশীর ভাগ ই আর্লি প্রেগনেন্সীতে আলট্রাসনো করে না।তাই এই বিপত্তি।ওটা টুইন প্রেগনেন্সী ছিল।একটা মিসড হয়ে গেছে আর্লিতেই।অন্যটা বড় হয়েছে।কিন্তু মিসড হয়ে যাওয়া প্রেগনেন্সী টার কিডনী দুটো এভাবে বড় হয়েছে।
এটা মেডিকেল মীরাকল বা ব্যতিক্রম।

মেসেঞ্জারে নন মেডিকেল রা যে লিংক টা পাঠাচ্ছেন।পেটে বাচ্চা রেখেই সিজার শেষ।তাদের বলছি।
পেটে বাচ্চা মানে কি বাচ্চা পাকস্থলীতে থাকে ভাবছেন?কিংবা অন্ত্রে?কৃমি আর আগন্তুক শিশু পাশাপাশি থাকে?
সাধারনরা এমন ভাবতেই পারেন।কিন্তু সাংবাদিক?বিশেষত যারা স্বাস্থ্য বিষয়ক সাংবাদিকতা করেন!না কি এটাও অশিক্ষা আর চাঁদাবাজির ই রুপ?

 

আমাদের শরীরের গঠন এবং কাজের একটা নিয়মতান্ত্রিকতা আছে।নারীর শরীরে জরায়ু আছে এবং জরায়ুতেই সন্তান বড় হয়।জরায়ুর বাইরে সন্তান কখন ও কখন ও তার স্থান নিলে তা ঐ সন্তানের এবং মায়ের দুজনের বিপদ।

ডাঃ হোসনে আরা দাউদকান্দিতে যে রুগীটার সিজারিয়ান অপারেশন করেছে সেখানেও একটি মেডিকেলীয় ব্যতিক্রম ঘটেছে।

 

জরায়ুর মধ্যে একটি বাচ্চা বড় হয়েছে।তাকে সিজার করে বের করা হয়েছে।
একি সময়ে জরায়ুর বাইরেও একটি বাচ্চা কিছুটা বড় হয়েছে।এই ভুল স্থানে বেড়ে ওঠা প্রেগনেন্সীটি একটি টিউমারের মতই সুস্থ বাচ্চাসহ বাড়ন্ত জরায়ুর চাপে এক পার্শ্বে অবস্থান নিয়েছিল।প্রথম দিকে আলট্রাসনো করা হয়নি বলেই সনোলজিষ্ট বিষয়টি রিপোর্ট করেননি।তাই ডাঃ হোসনে আরা এই তথ্যটি জানত না।
সিজার করে তিনি সুস্থ বাচ্চাটাকে বের করেছেন।আর দরকারী রক্ত এবং সুযোগ সুবিধার অভাবে এক্টোপিক ঐ টিউমার সদৃশ বস্তুটির কিছুই করেননি।


এক মাস পর ঢাকা মেডিকেলে সেই টিউমার অপারেশন হয়।রুগীনি বিপদমুক্ত।
এই চিকিৎসা পথ পরিক্রমাতে যে সকল সাংবাদিক অপসাংবাদিকতা করেছে,মিথ্যা এবং ভূয়া তথ্য পরিবেশন করে সকলকে বিভ্রান্ত এবং ঐ চিকিৎসককে হয়রানি এবং মানসিক ক্ষতির কারন হয়েছে,তাদের কি হবে?
আমি ডাঃ হোসনে আরাকে অনুরোধ করব এই বিষয়ে তাকে যারা হয়রানি করেছে সেই সকল সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা।

 

যাতে করে আর কোন সাংবাদিক স্বাস্থ্যগত বিষয় না জেনে উদ্ভট এবং বানোয়াট রিপোর্ট করে চিকিৎসকদের হয়রানি করতে না পারে।
ডাক্তারী একজন ডাক্তারের পেশা।কাজের বিনিময়ে সে অর্থ উপার্জন করে।কিন্তু অযাচিত হয়রানি কারো কাম্য নয়।
তাই এই অবস্থা থেকে এক্ষুনি উত্তরিত হতে হবে।
চিকিৎসা বিষয়ক ভুল রিপোর্ট কারী সাংবাদিকদের অবশ্যই শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।