|

প্রিয়তমা সাবালিকা তোমাকে


Published: 2016-12-27 19:28:21 BdST, Updated: 2017-01-20 05:22:52 BdST

  মডেল ছবি ।

 

 

 

ডা. ফাহাদ মুনতাসির

________________________

প্রিয়তমা সাবালিকা,

কিছুদিনের অল্প পরিচয়ে কতই না আপন করে নিয়েছিলে আমাকে । অথচ কোন এক পিছুটান তোমাকে নিয়ে যাচ্ছে অনেক দূরে, আমার ধরাছোঁয়ার অনেক বাহিরে... আমি আজ চাইলেও তোমার হাতটা ধরতে পারি না, তোমার তৃপ্তিমাখা মায়া ভরা মুখটাও দেখতে যেতে পারি না ।

আমার শেষ কথাগুলোয় তোমার অনেক অবাক লেগেছে তাই না ? লাগারই কথা, যে ছেলে তোমাকে পাগলের মত ভালোবাসতো, তুমি খেলে সে খেতো, তোমার ফোনের অপেক্ষায় থাকতো আবার সেই ছেলেই কিনা তোমার সুখের কথা ভেবে নিজের ভবিষ্যৎকে জলাঞ্জলি দিয়ে তোমার কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলো !!!

সত্যিই আজ আমি ভালবাসা বুঝি, প্রেমিকার হাসির মূল্য বুঝি, আজ আমি নিজের চাওয়া পাওয়া ভাল লাগাকে তোমার সুখের জন্য এক নিমিষেই শেষ করে দিতে পারি । আর তাই তো নিজেকে তোমার সামনে আমার এমন উপস্থাপন করা । যেন নিজেকে নিজের মত করে সাজিয়ে নিতে পারো...

তবে কিছু কথা না বলে পারছি না । আমি কখনোই তোমাকে বন্দী করতে চাইনি । তোমাকে ভেবেছি একটা শান্ত, স্নিগ্ধ, তন্বী নদীর স্বচ্ছ জলের মত... মুক্ত মৃদু হাওয়ার মত । অথচ তুমি এখন গ্লাসে ভরা স্থির পানি, বেলুনে ভরা বাতাসের মত বন্দী । নিজস্বতা আজ হারিয়ে যাচ্ছে তোমার । তুমি আজ কারো শৃংখলে বন্দী । অথচ আমরা ছিলাম মেঘেদের মত ।

আজ তুমি অনেক ব্যস্ত । ব্যস্ততার পরেও ব্যস্ততা থাকে তোমার । কেউ তোমাকে নিতে আসে, তোমার জন্য অপেক্ষা করে, তোমাকে খাওয়ায়, বাসায় পৌঁছে দেয়, শপিং এ নিয়ে যায়, তোমার যত্ন নেয়, তোমাকে অনেক ভালবাসে । আমি কারও ভালবাসার সাথে আমার ভালবাসার তুলনা করতে চাই না । স্বল্প সামর্থ্যের খুব সাধারণ জীবন আমার । তাই হয়তো তোমাকে কিছুই কিনে দিতে পারিনি, তোমাকে সে ভাবে আপ্যায়নও করতে পারিনি । তবে বিশ্বাস কর, তোমাকে খুশি করার এক দুর্দমনীয় ইচ্ছা আমার শিরায় উপশিরায় মিশে আছে সবসময়।

তোমার কাছেই প্রশ্ন রাখতে চাই, আমার সাথে যে কয়েকদিন তোমার দেখা হয়েছিলো, তাতে কি কোন কিছুর কমতি ছিল ? কোন কিছু কি তোমার খারাপ লেগেছে ? আর যদি আমি তার অর্ধেক সময়ও অধিকার নিয়ে তোমার পাশে দাঁড়াতে পারতাম, তবে কি আমি তার চেয়ে কম ভালবাসতাম ??

থাক সে কথা, তুমি এখন ডাক্তার । সামনে সোনালী ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে তোমার জন্য । তোমার ক্যারিয়ার, স্বামী-সংসার, বাবা মাকে সময় দেয়াই এখন তোমার মুখ্য কাজ হওয়া উচিৎ। তুমি হয়তো অনেক ভালই থাকবে প্রিয়তমা । কিন্তু তুমি কি তোমার বাবুর কথাটা একবার ভেবেছো ? সে তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবে কিনা ? আর কিভাবে থাকবে ?

আজ ছলছল চোখে যে চিঠিটা তোমাকে লিখছি, জানি তার উত্তর আসবে না । তবে এর উত্তর সময়ই দেবে । উত্তরের নাম অপেক্ষা...

আমি তোমাকে ছাড়া একটা দিনও থাকতে পারবো না । তোমার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া অথবা নস্ট হওয়া ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই আমার । তুমিই বলে দাও আমি কি করবো ?

তোমাকে অনেক লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারছি না, লিখতে গেলে চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, নীরবে অশ্রু ঝরছে। মনে হচ্ছে লিখবার জন্য কোন ভাষা খোঁজে পাচ্ছিনা । তোমার কোন দোষ নেই আর আমি তোমাকে দোষারোপও করতে চাইনা । আর চাইলেই কি পারবো ? কারণ সে অধিকার তুমি কেড়ে নিয়েছ । সব দোষ আমার, আমি একটুবেশী আবেগপ্রবন হয়েছি । তাই ভালোবাসার সুখটাই দেখেছিলাম, আজ ভালোবাসার অন্যপিঠে যে কষ্ট আছে তাও দেখলাম এবং সেই কষ্টটা যে এত তীব্র কখনো বুঝতে পারিনি ।

তুমি না চাইলে আর কখনোই দেখা হবে কিনা জানি না । দেখা করা নিয়েই যত আপত্তি তোমার, তাই না ? কবি নজরুলের কিছু কথা না বলেই পারছি না... দেখা? না-ই হ’ল এই পৃথিবীতে । আমার প্রেমের ফুল এ ধূলিতলে হয়ে গেছে ম্লান। আমার প্রেমের স্পর্শ তুমি পেয়েছো, জানি না তুমি ভাগ্যবতী কি না? তবে তোমার মায়া স্পর্শে আমার সকল কিছু আলোয় আলোময় হয়ে উঠছিল । তবে আমার সেই আলোময় জীবন আজ ক্রমশই নিকষকালো অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে ।

মনে পড়ে আমাদের নৌকায় ঘুরার কথা ? আমার কোলে মাথা দিয়ে নদীর জলের ঢেউ এ দুলতে দুলতে আকাশ দেখা ? মনে পড়ে আমাদের দিয়াবাড়িতে কাটানো এক পড়ন্ত বিকেলের কথা ? কিংবা সুন্দরবনে লঞ্চের ছাদে আমাকে জড়িয়ে ধরে তোমার আকাশের তারা দেখা ? আমার কাছে মনে হয় যেন, সবই যেন কালকের কথা। মহাকাল যে স্মৃতি মুছে ফেলতে পারলেননা। কী উদগ্র অতৃপ্তি, কী দুর্দমনীয় প্রেমের জোয়ারই সে দিনগুলো এসেছিল।

যাক আজ চলেছি জীবনের অস্তমান দিনের শেষে রশ্মি ধরে ভাটার স্রোতে, তোমার ক্ষমতা নেই সে পথ থেকে ফেরানোর। আর তার চেষ্টা করোনা। তুমি যদি সত্যিই আমায় ভালবাস আমাকে চাও তবে সবখান থেকেই আমাকে পাবে। তোমাকে লিখা এই আমার দ্বিতীয় ও শেষ চিঠি হোক। যেখানেই থাকি বিশ্বাস করো আমার অক্ষয় আশির্বাদ কবচ তোমায় ঘিরে থাকবে । তুমি সুখি হও, শান্তি পাও, এই প্রার্থনা। আমায় যত মন্দ বলে বিশ্বাস করো, আমি তত মন্দ নই, এই আমার শেষ কৈফিয়ৎ ।

___________________________________


লেখক ডা. ফাহাদ মুনতাসির । সুলেখক। মানবসেবী সংগঠক। Medical & Health Affairs Secretary at Human Rights & Legal Aid Center Foundation-
President at Heart To Heart For Humanity

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।