Ameen Qudir

Published:
2018-11-07 11:20:50 BdST

কিডনি নিয়ে বিএসএমএমইউর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের জবাব দিলেন বিশেষজ্ঞ দল


 

ডেস্ক
__________________________

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসালয় ও চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: বিএসএমএমইউতে কিডনি অপারেশন সংক্রান্ত মিডিয়ার অপপ্রচারের
জবাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। গঠিত তদন্ত ও বিশেষজ্ঞ দল জানিয়েছেন কোন বিশেষ স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে ওই শোকাবহ ঘটনা ঘটল।
বাংলাদেশের সিনিয়র স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞগন বলছেন,
চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে অজ্ঞতা ও মুর্খতা প্রসূত নানা রিপোর্ট ও অপপ্রচারের কারণে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবমূর্তি বাড়ছেই। সম্প্রতি একাধিক ঘটনা সকলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আসগর আলী হাসপাতালে এক ডেঙ্গি রোগীর শোকাবহ মৃত্যু ; যা কিনা চিকিৎসা বিজ্ঞানের অপারগতার কারণে ঘটেছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট নারী চিকিৎসককে কেন্দ্র নানারকম নোংরা প্রোপাগান্ডা ; তার ছবিতে জুতো লাগিয়ে প্রচারণা ; বিএসএমএমইউতে কিডনি অপারেশন নিয়ে মিডিয়ার উস্কানী মূলক রিপোর্ট; বিএসএমএমইউ বিরোধী নোংরা প্রচার বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর রোগী রওশন আরার কিডনিতে একটি অতি স্পর্শকাতর অস্ত্রোপচার করেন বিএসএমএমইউ-এর চিকিৎসকরা। গত ৩১ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন রোগী রওশন আরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ২২ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, এই শোকাবহ ঘটনায় দেশের হলুদ মিডিয়ায় অপপ্রচার চলে যে, তার কিডনি চুরি হয়েছে। চুরি করে পাচার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ হাসপাতালে কিডনি চুরি: ইত্যাদি নোংরা ও অসত্য প্রচার। স্বার্থান্বেষী প্রপাগান্ডাকারীরা কিডনি ভারতে পাচার হয়েছে বলে অনলাইনে অব্যাহত মিথ্যা প্রচার চালায়। পরে তদন্তে জানা যায়, এসব অপপ্রচার ঢাহা মিথ্যা। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য এই প্রচার চালানো হয়।


বিএসএমএমইউর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ঢাহা মিথ্যা
____________________

অস্ত্রোপচারের পর ২ কিডনি হারানো রোগী রওশন আরার মৃত্যু কিডনি রোগে হয়নি বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসা অবহেলা খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ‘সিভিয়ার সেপিসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রওশন আরার মৃত্যু হয়েছে।’ ৫ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, ওই রোগীর (রওশন আরা) জীবন বাঁচাতে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য পুঁজগুলো রিমুভ করার জন্য হয়তো বাম দিকের কিডনির সঙ্গে বাম কিডনি যেটা পুরোপুরি নর্মাল থাকলেও সেটা চলে আসে।ইনফেকশন সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে যাওয়ায় পরে তার স্ট্রোক হয়। তার মৃত্যু হয়েছে সিভিয়ার সেপটিসেমিয়ায়। তিনি বলেন, আমরা তো শোক ছাড়া কিছু আর আপনাদের বলতে পারছি না। আমরা দুঃখিত, আমরা মর্মাহত।’

জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রধান বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাম যখন করা হয়, তখন পুরোপুরি সেখানে লেখা আছে, তার দুটো কিডনি। একটি কিডনি ফুলে গেছে। আর একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তাকে যখন সিটি স্ক্যান করা হয়, তখন বলা হয় তার দুটো কিডনি একটি হাইড্রো নেফ্রোটিক, অন্যটি অলমোস্ট নরমাল। যেহেতু কিডনির ফাংশন নর্মাল ছিল। আমরাও আশা করেছিলাম, একটি কিডনি অস্ত্রোপচার করলে রোগী সুস্থ থাকবেন। কিন্তু রোগী ইনফেকটেড ছিলেন। আগে দুই বার তার কিডনি অপারেশন হয়েছে। অপারেশনের টেবিলে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাই ইনফেকশনতার শরীরে ছড়িয়ে যায়। হিস্টোপ্যাথলজিতে যখন কিডনিটা পাঠানো হলো, তখন আমাদের ধারণা হলো, দুটি কিডনি থাকার পরও কিডনির নিচের দিকে কানেকটেড ছিল, যেটা আমরা মেডিক্যাল সাইন্সে বলি হর্ষ কিডনি।

তদন্ত কমিটির সদস্য ডা. আমানুর রসুল বলেন, এই রোগীর জন্মগতভাবে কিডনি অস্বাভাবিকভাবেই তৈরি ছিল। যখন রোগীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, তখন সার্জনের উদ্দেশ্য ছিল রোগীর জীবন বাঁচানো। কারণ কিডনি না থাকলেও সে ডায়ালাইসিস করে বেঁচে থাকবে। প্রচুর রক্তক্ষরণ ও সিভিয়ার এডিশন থাকার জন্য আমি যে জিনিসটা এনেছি, একজন সার্জন হিসেবে সেটা কিডনি কিনা, সেটা বোঝা অসম্ভব। ওই সময় সার্জন যেটা করেছে, সেটা ছাড়া উপায় ছিল না। যদি দুটি কিডনি জোড়া লাগানো থাকে, তখন সেটি চলে আসতে পারে। এই রোগীর ক্ষেত্রে সার্জনের একটাই লক্ষ্য ছিল, সেভ দ্য পেসেন্ট নট দ্য অর্গান।’

বিএসএমমইউ-এর প্রো-ভিসি (প্রশাসন) ডা. মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘অস্ত্রোপচারে ব্লিডিংয়ের সময় ব্লাড প্রেসার ড্রপ হয়। এটি হলে অনেকদিন ধরে ইউরিন সাপ্লাই হয় না।’


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়